উজবেকিস্তান ম্যাচে জোড়া গোল করে রাজার মতো ফিরেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ওই দুই গোলেই আকাশসমান চাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন সিআর সেভেন। শাপমোচন হয়েছে পর্তুগাল অধিনায়কের। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড, হ্যারি কেইনদের সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছেন রোনালদো। অবশ্য তারকা ফুটবলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেসে সবার ওপরে লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন জীবন্ত কিংবদন্তি এখন পর্যন্ত গোল করেছেন দুই ম্যাচে ৫টি। তার পেছন পেছন ছুটছেন ফ্রান্সের এমবাপ্পে, নরওয়ের হলান্ড। উভয়ই গোল করেছেন দুই ম্যাচে ৪টি। ৩টি করে গোল করেছেন জার্মানির ডেনিজ উনদাভ ও কানাডার জোনাথন ডেভিডস। আলোচনায় রয়েছেন মেসি, এমবাপ্পে, হলান্ড, রোনালদো। কিন্তু টানা দুই ম্যাচে মাঠে নেই বলে তেমন আলোচনায় নেই ব্রাজিলের ম্যাজিক্যাল ফুটবলার নেইমার। আজ ভোরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের। মাঠে নামলেই হয়তো তার নাম সমোচ্চারিত হবে মেসিদের সঙ্গে।   


আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন মেসি। যা তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে প্রথম। ওই হ্যাটট্রিকেই তিনি নাম লেখেন মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে। জোড়া গোল করেন অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। একই ম্যাচে আবার পেনাল্টিও মিস করেন। বিশ্বকাপে ওটা ছিল আর্জেন্টাইন তারকার সাত পেনাল্টিতে তৃতীয় মিস। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে পেছনে ফেলেন জার্মানির ক্লোসাকে। বিশ্বকাপে মেসির গোল ২৮ ম্যাচে ১৮টি। ক্লোসার গোল ১৬টি। আর্জেন্টাইন ফুটবলারের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ইউরোপের দুই ফুটবল তারকা এমবাপ্পে ও হলান্ড। দুজনই বিশ্বকাপে গ্রুপ ’আই’ এ খেলছে। গ্রুপ থেকেই দুই দলই টানা দুই জয়ের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রুপে নিজেদের ম্যাচে পরস্পরের বিপক্ষে খেলবে দুই দেশ। দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স প্রথম ম্যাচে ৩-১ গোলে সেনেগালকে হারায়। জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। বৃষ্টিস্নাত ম্যাচে ইরাককে হারায় ৩-০ গোলে। জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। দলের ৬ গোলে ৪টিই করেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা ১৬টি। নরওয়ের ৭ গোলের ৪ গোল করেন ভাইকিং ফুটবলার হলান্ড। ইরাক  ম্যাচে দুই এবং সেনেগাল ম্যাচে জোড়া গোল করেন।


বিশ্বকাপ ট্রফি আকাশপানে টেনে তুলতে কমপক্ষে একজন ফুটবলারকে ৮ ম্যাচ খেলতে হবে। গোল্ডেন বুট, গোল্ডেন বল জিততে অপেক্ষায় থাকতে হবে ফাইনাল পর্যন্ত। মেসি, এমবাপ্পে, হলান্ডদের আরও ছয় ম্যাচ খেলতে হবে। তিন ফুটবলার এগিয়ে থাকলেও রেসে টিকে আছেন জার্মানির উনদাভ, কানাডার ডেভিডস। দুজনের গোল ৩টি করে। আসরে দুই হ্যাটট্রিক মেসি ও ডেভিডসের। ২টি করে গোল করেছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন, পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেদারল্যান্ডসের ক্রিসেনসিও সামারভিল, স্পেনের মিকেল ওইঝারভাল, ব্রাজিলের ভিনিসাস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহাসহ একাধিক ফুটবলার।


৪০ বছরে পা দিয়েছেন মেসি। এই বয়সে দুর্দান্ত খেলছেন। এই অসাধারণ কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম বিশ্রাম ও কম খেলা। বার্সেলোনা ছেড়ে মেসি যোগ দেন ইউরোপের আরেক ফুটবল শক্তি পিএসজিতে। ফরাসি ক্লাব থেকে সরে এসে দুই বছর ধরে খেলছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগে। ডেভিড বেকহামের দল ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন। তার নেতৃত্বে দলটি শিরোপা জিতেছে ২টি। মেজর সকার লিগে খেলায় বছরে ৩০-৩৫টির বেশি ম্যাচ খেলতে হয় না মেসিকে। সেজন্য পূর্ণ বিশ্রাম পাচ্ছেন। অথচ বার্সেলোনা, পিএসজিতে খেলার সময় বছরে ৫০-৬০ ম্যাচ খেলতে হতো তাকে। এতে ক্লান্ত হয়ে বিশ্বকাপ খেলতেন মেসিসহ রোনালাদো, এমবাপ্পের মতো বড় বড় ফুটবলার। মেসির বয়স ৪০, রোনালদোর বয়স ৪১। মেসি যে ধারায় গোল করছেন, রোনালদো সে ধারায় পারছেন না। অবশ্য উজবেকিস্তান ম্যাচে গোল করে ছন্দে ফিরেছেন রোনালদো।