জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণার পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেছেন, প্রধানত তিনটি বিষয়ের ওপর আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে কোনো কিছুই বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য যে-ই সরকারে আসুন না কেন এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে না পারলে সবকিছুই ভেস্তে যাবে। এর আগে ৯টি বিষয়ের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেন। মোট ৪৪ পৃষ্ঠার উপস্থাপিত বিশাল এই নির্বাচনি ইশতেহারে চুম্বক অংশগুলো উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সমর্থনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে ইশতেহারের সব প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাল্লাহ। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে গতকাল বিকালে ঘোষিত দলের ইশতেহারে প্রধানত যে ৯টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে এক. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
দুই. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা। মৎস্যচাষি, খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।
তিন. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং সারা দেশে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
চার. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন এবং প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।
পাঁচ. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
ছয়. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
সাত. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খালখনন ও পুনঃখনন, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।
আট. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য সম্মানি ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণব্যবস্থা চালু করা হবে।
নয়. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম (পে-পল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা-এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়ে সরকারের দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রত্যেক নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
দীর্ঘ এই ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ের ৬ নম্বর পৃষ্ঠায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। ইশতেহার পাঠকালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফায় প্রথমে জুলাই সনদের বিষয়টি ছিল না; কিন্তু দেশের দলমতনির্বিশেষে সবাই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি চায় না। আমরা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি চাই না। তাই আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। এ ছাড়া জুলাই সনদের বেশির ভাগ বিষয়বস্তু আমাদের ৩১ দফার মধ্যেই রয়েছে। তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁরা যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য তাঁদের নামে নিজস্ব এলাকায় রাস্তা, ব্রিজ ও প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হবে।
উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি : ঘোষিত ইশতেহারের রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার অংশে বলা হয়েছে, সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা হবে। এ ছাড়া জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, অগণতান্ত্রিক সংশোধনী বাতিল, ৩১ দফার ভিত্তিতে সংস্কার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল, উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃজন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছর, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংসদে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, বিরোধীদলীয় ডেপুটি স্পিকার, উচ্চকক্ষে ২০ শতাংশ নারী, ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কার করবে দলটি।
ন্যায়পরায়ণ বাংলাদেশ গঠন, ফ্যাসিবাদ ও তাঁবেদারির পুনরাবৃত্তি দমন, বৈষম্য দূরীকরণ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, ভোটকে রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র বৈধ উৎস হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, রাষ্ট্রের সব স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করা হবে, গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির বিপরীতে ভবিষ্যৎমুখী নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি।
রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারে বিএনপির ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, বিএনপি বিশ্বাস করে জাতি গঠন মানে কেবল রাষ্ট্র পরিচালনা নয়। বরং বিভাজন অতিক্রম করে একটি অভিন্ন জাতীয় সত্তা নির্মাণ। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের অবসান ঘটানো, আমাদের একটাই পরিচয় আমরা সবাই বাংলাদেশি, বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ের মানুষ, সমতলের মানুষ, ধনী-দরিদ্রনির্বিশেষে সবাই মিলে আমরা গড়ে তুলব জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ড জাতীয় সত্তা। একই সঙ্গে ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।
১০ বছরের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রী নয়, প্রস্তাবটি বিএনপিই সবার আগে দেয় : অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানান, জুলাই সনদের অনেক বিষয়ই বিএনপির উত্থাপিত ৩১ দফার অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে একটি ‘১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী নয়’ এই প্রস্তাবটি। তিনি জানান, এই প্রস্তাবটি আরও আড়াই বছর আগেই বিএনপি উত্থাপন করেছে। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে বেশ কিছু সংস্কার প্রয়োজন আছে। সংস্কার কমিশনে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে, সেখানে যে আলোচনা হয়েছে, তার অনেক কিছুই আমরা প্রায় আড়াই বছর আগে জাতির সামনে উপস্থাপন করেছি।
সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজন করবে বিএনপি : বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ সংযোজন করবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা এক ব্যক্তির দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়ার বিধান চালু করব। তা ছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়টি উন্মুক্ত করব।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সেই হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান সামনে রেখে ‘করব কাজ, গড় দেশ’ বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সামনে রেখে নির্বাচনি ইশতেহার পেশ করে দলটি। এতে পাঁচটি অধ্যায়ের প্রথম অধ্যায়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার, দ্বিতীয়ত বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন, তৃতীয়তে ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার, চতুর্থতে অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং শেষ অধ্যায়ে ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতির কথা তুলে ধরে দলটি। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপির নির্বাচন ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চীন, পাকিস্তান ইউরোপীয় রাষ্ট্রদুত ও যুক্তরাষ্ট্র ভারত রাশিয়া বৃটেনসহ ৩৮ টি দেশের কূটনীতিক প্রতিনিধি, যায়যায়দিন পত্রিকা সম্পাদক শফিক রেহমানসহ সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদকসহ ৬০ জন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, কবি, সাহিত্যিক লেখক, বুদ্ধিজীবী ও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আজ ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৩ বছর পর আজ ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন। তাঁর আগমন ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। জেলাজুড়েই বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। এর মধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রস্তুত জনসভাস্থল।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিতে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এজন্য ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভা মঞ্চ নির্মাণ, আলোকসজ্জা, শব্দব্যবস্থা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে। এর আগে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে একটি শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছিলেন তারেক রহমান। তবে দীর্ঘ ২৩ বছর পর তাঁর এই আগমনকে শুধু একটি রাজনৈতিক সফর হিসেবেই দেখছেন না ঠাকুরগাঁওবাসী। বরং এটি তাদের কাছে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, অবহেলিত জনপদ ঠাকুরগাঁও। বরাবরই এই জেলা সব দিক থেকে পিছিয়ে।
তারেক রহমানের সফর আমাদের মনে নতুন করে আশার স্বপ্ন বুনেছে। আমরা চাই তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও জেলার উন্নয়নের বার্তা দেবেন এবং তা বাস্তবায়ন করবেন। শহরের ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবদুল লতিফ আশা করেন ঠাকুরগাঁওয়ের পরিত্যক্ত বিমানবন্দরসহ জেলার উন্নয়নে তারেক রহমান অবদান রাখবেন। তিনি বলেন, পিছিয়েপড়া জনপদ তারেক রহমানের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে- আমরা বিশ্বাস করি। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন। তারেক রহমানের এ সফর আমাদের আরও উজ্জীবিত করবে এবং জেলার উন্নয়নেও তারেক রহমান অবদান রাখবেন।