হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ ঘোষণা দিয়ে এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে প্রকাশ্যে সমর্থনের পর তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে। তেমনি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাজীরহাট বড় মাদ্রাসায় বৃহস্পতিবার রাতে বুখারি শরিফ খতম উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বক্তব্যে তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে দেখছেন উল্লেখ করে মুসলমানদের উদ্দেশে বলেন- ‘জামায়াতকে ভোট দেওয়া হারাম, কোনোভাবেই জায়েজ নয়।’


অনুষ্ঠানে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. সরোয়ার আলমগীরকে সামনে রেখে বাবুনগরী তাঁর অবস্থান আরও স্পষ্ট করেন, যা মুহূর্তেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বক্তব্য প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ঢল নামে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত সংবাদের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক।


কিছু ব্যবহারকারী তাঁর বক্তব্যে সমর্থন জানালেও বেশির ভাগ মন্তব্যে এ ধরনের ভাষা ও রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধিতা করা হয়েছে। অনেকে এটিকে নির্বাচনি পরিবেশের জন্য উত্তেজনাকর বলে আখ্যা দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ ধর্মীয় বক্তব্যকে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, হেফাজত আমিরের এই বক্তব্য চট্টগ্রাম-২ আসনের নির্বাচনি সমীকরণে নতুন হিসাব যোগ করেছে। বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সামনে প্রচারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও অনেকে মনে করছেন।