তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আত্মরক্ষার্থে ইরানের হামলার পর টানা কয়েক দিন ধর উপসাগরীয় অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।
এমন পরিস্থিতিতে শিপিং সেক্টরে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। নিরাপত্তা শঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরগুলোতে জাহাজ পাঠানোর সাহস পাচ্ছে না বিশ্বের বৃহৎ শিপিং কোম্পানগুলো। নতুন কনটেইনারগামী বুকিং প্রায় বন্ধ। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক বন্দর থেকে আমদানিও হচ্ছে না। এছাড়াও গত সোমবার থেকে ইরান সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
তবে যেসব কনটেইনার ইতোমধ্যে বন্দরে এবং জাহাজে রয়েছে, খরচ পুষিয়ে নিতে এধরনের কনটেইনারে সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যগামী ২০ ফুট লম্বা কনটেইনারে ৮০০ থেকে ২০০০ ডলার পর্যন্ত সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে। রেফার কনটেইনারে (হিমায়িত) এই সারচার্জ প্রায় দ্বিগুণ। এতে বেড়ে যাচ্ছে আমদানি-রপ্তানি ব্যয়।
শিপিংখাত সংশ্লিষ্টরা জানান, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। বেড়ে গেছে তেলের দাম। বিভিন্ন পথ ঘুরে কনটেইনার বা পণ্য গন্তব্যে পৌঁছে দিতে হচ্ছে। এছাড়া নাবিকদের ক্ষতির আশঙ্কা এবং তাদের বীমা কাভারেজের বিষয় রয়েছে। সব মিলিয়ে বাড়তি খরচ পোষাতে অনেক শিপিং লাইন পণ্য পরিবহণে সারচার্জ আরোপ করেছে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, শিপিং কোম্পানিগুলো মধ্যপ্রাচ্যের রুটে এখন বুকিং বন্ধ রেখেছে। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। যেসব কনটেইনারের আগে বুকিং হয়েছে, সেগুলোতে সারচার্জ আরোপ করেছে বেশ কয়েকটি শিপিং লাইন। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সব দেশের জন্যই সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে কনটেইনার পরিবহনের শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্কের মায়ের্সক লাইন, সুইজারল্যান্ডের মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানি, ফ্রান্সের সিএমএ-সিজিএম ও জার্মানির হ্যাপাগ-লয়েড। এর মধ্যে মায়ের্সক লাইন, সিএমএ-সিজিএম এবং হ্যাপাগ-লয়েড অরব উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে পণ্য পরিবহনে ঝুঁকি সারচার্জ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
মেডিটেরানিয়ান শিপিং কোম্পানির (এমএসসি) হেড অব আপারেশন্স অ্যান্ড লজিস্টিকস আজমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান এখনও সারচার্জ আরোপ করেনি। তবে শিগগিরই আরোপের ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল ও আশপাশের অনেকগুলো রুটে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রে এ সারচার্জ আরোপ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পোর্ট চার্জ বেড়ে যাওয়া, জাহাজ অলস বসে থাকা, শ্রমিকদের নিরাত্তা ঝুঁকি এবং ঘুরপথে পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারেণ শিপিং লাইনগুলো সারচার্জ আরোপে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে পণ্য বুকিং প্রায় বন্ধ রয়েছে। একইভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি বুকিং বন্ধ রয়েছে।