ক্রিপ্টোকারেন্সি বা মেম কয়েনের দর পতন সত্ত্বেও ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো ক্লাবে বিজয়ীদের নিয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শনিবার পাম বিচে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন তার ‘ট্রাম্প’ টোকেন বা কয়েন কেনা শীর্ষ ২৯৭ জন বিনিয়োগকারী। 


গত বছর এই টোকেনের দাম যখন সর্বোচ্চ শিখরে ছিল, সেই তুলনায় বর্তমানে এর মূল্য প্রায় ৯৬ শতাংশ কমে গেছে। তবুও শীর্ষ পর্যায়ের এই ক্রেতাদের সাথে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ এবং বিশেষ নৈশভোজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের জন্য ট্রাম্প একটি বিশেষ ‘ভিআইপি রিসেপশন’ এবং শ্যাম্পেন টোস্টের আয়োজন করেছেন। ট্রাম্প এই সম্মেলনকে বিশ্বের সবচাইতে ‘এক্সক্লুসিভ’ ক্রিপ্টো ও বিজনেস কনফারেন্স হিসেবে অভিহিত করেছেন, যেখানে তিনি নিজে মূল বক্তব্য প্রদান করবেন। তবে এই আয়োজন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা নিয়ে খোদ ওয়াশিংটনে বিতর্ক ও তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতারা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট পদে থেকে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ সিদ্ধি করছেন ট্রাম্প, যা মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন।


অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই ট্রাম্প পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মেম কয়েন বিক্রি করে প্রায় ৩৩৬ মিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে। সামগ্রিকভাবে ক্রিপ্টো সম্পদ থেকে তাদের আয় ইতোমধ্যে এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের সম্পদ একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে তার সন্তানরা দেখাশোনা করছেন এবং এখানে স্বার্থের কোনো সংঘাত নেই। 


তবে নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প যখন মার্কিন ক্রিপ্টো নীতি নতুন করে সাজাচ্ছেন, ঠিক তখনই তার ব্যক্তিগত ক্রিপ্টো সম্পদের এমন উল্লম্ফন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষক সংস্থা নানসেনের তথ্যমতে, বর্তমানে ‘ট্রাম্প’ টোকেনের বাজার পরিস্থিতি বেশ নাজুক। যেখানে গত বছর এই টোকেনের দাম সর্বোচ্চ ৭৫ ডলারে উঠেছিল, বর্তমানে তা মাত্র ২ দশমিক ৮১ ডলারে নেমে এসেছে।


 এবারের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে বিনিয়োগকারীদের শুধু কয়েন কেনাই নয়, ট্রাম্পের নামাঙ্কিত স্নিকার্স, ঘড়ি ও সুগন্ধি কেনার শর্তও দেওয়া হয়েছিল। বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা পোস্টার এবং বিশেষ ব্র্যান্ডের ঘড়ি পেতে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবারের প্রতিযোগিতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগের মতো উন্মাদনা দেখা যায়নি, যা টোকেনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় বাড়াচ্ছে।


এদিকে এই আয়োজনের মধ্যেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে ক্রিপ্টো বিলিয়নেয়ার জাস্টিন সানকে নিয়ে। গতবারের মতো এবারও প্রতিযোগিতায় প্রথম হওয়া সান ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি তার বিনিয়োগ করা অর্থ আটকে রেখেছে। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড লিবার্টির প্রধান নির্বাহী জ্যাক উইটকফ এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।