ভোট-পরবর্তী অশান্তি, পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদ, নিট পরীক্ষার জালিয়াতি ও বিজেপি সরকারের প্রতিহিংসামূলক আচরণের প্রতিবাদে ধরনা কর্মসূচি পালন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেল’ ধরনা কর্মসূচি থেকে বিজেপিকে নিশানা করেছেন দলনেত্রী এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।


তাঁর অভিযোগ, দিল্লি থেকে কলকাঠি নাড়িয়ে তৃণমূলকে ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। বেআইনিভাবে পুলিশ দিয়ে আমাদের দলের বিধায়ক কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। সেই প্রচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না।


রাজনৈতিক সভায় হঠাৎ করেই বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন মমতা। তার দাবি, হাদি হত্যাকারীদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন পান মমতা। তাঁকে বলা হয়, এ বিষয়টি যেন বাইরে না জানানো হয়।  মমতা বলেন, বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি বলতে চাই, ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়।


কারণ এটা দেশের ব্যাপার।


অমিত শাহর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে মমতা বলেন, কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকের সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভান্ডার, তথ্য ভান্ডার। এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।


এর আগে তিনি রেড রোডে অবস্থিত ভারতীয় সংবিধানের রচয়িতা বি আর আম্বেদকর এবং জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখান থেকে চলে আসেন ওয়াই চ্যানেলে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করে দলের নেতা-কর্মীদের সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও বিধায়ক ও সাংসদদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়নি।


সদ্য শেষ হওয়ার রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনে ৮০ আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। এর মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সোমবারই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে তৃণমূল। ফলে ৭৮ জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন বিধায়ক, সাংসদ, কাউন্সিলর ও পরাজিত বিধায়কদের দেখা গেল এদিনের কর্মসূচিতে, এদের মধ্যে অন্যতম বিধায়ক কুনাল ঘোষ, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র, অশোক দেব, নয়না ব্যানার্জি, সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি, দোলা সেন। দলনেত্রীর নির্দেশ সত্ত্বেও কার্যত ছন্নছাড়া অবস্থা তৃণমূলের এই ধারণা কর্মসূচির চেহারা।


এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী তাপস রায়। শুভেন্দু বলেন, এতো দুরবস্থা জানতাম না। দেড়শটা লোকও আসেনি। আপনারা ২০০ জন সাংবাদিক না থাকলে আরও করুণ অবস্থা হয়ে যেত।


রাজ্যের ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং একসময় তৃণমূল করে আসা রাজনীতিবিদ তাপস রায় জানিয়েছেন, খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সেই কারণে ক্ষমতায় থাকলে দম্ভ, অহংকার দেখাতে নেই। অহংকারটা আকাশ ছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল।