এখন থেকে আর আক্ষেপ নয়, অপরাধীদের জেলে আটকে রাখতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) নিয়েছে ভিন্ন কৌশল। মাদককে সব অপরাধের সূতিকাগার ঘোষণা দিয়ে পুলিশ নেমেছে চিরুনি অভিযানে। এ অভিযানে নিয়মিত মামলা নয়, একদম ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ কৌশল নিয়েছে পুলিশ। মাদকসেবী ও কারবারি পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে পাঠানো হচ্ছে জেলে। পুলিশের এ উদ্যোগ নগরবাসীর প্রশংসা কুড়াচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে সিলেটে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ। অপরাধ দমনে পুলিশও মাঠে নামে আদাজল খেয়ে। বিশেষ অভিযানে প্রতিদিনই দাগিদের পাশাপাশি ধরা পড়ছে নতুন অপরাধীরাও। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর অল্প সময়ের মধ্যে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে এসে তারা ফের একই অপরাধে জড়ায়। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এসব অপরাধীর প্রায় শতভাগই মাদকাসক্ত। বেশির ভাগ অপরাধী মাদকের টাকার জন্য জড়িয়ে আছে অপরাধ জগতে। এ ছাড়া সিলেট মহানগরীতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতরাও মাদকাসক্ত ছিল বলে জানতে পারে পুলিশ। তাই শেষ পর্যন্ত মাদক নির্মূলে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করে মাঠে নেমেছে এসএমপি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত মে মাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৬৬৫ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চলতি বছরের আগের মাসগুলোতেও গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছিল প্রায় সমান। পুলিশের এত অভিযানের পরও অপরাধ দমন না হওয়ায় এবার মাদক নির্মূলের মাধ্যমে অপরাধমুক্ত নগর গড়ার বিশেষ ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ নিয়েছে এসএমপি। গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের জেলে আটকে রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। এর অংশ হিসেবে গত শনিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে ‘চিরুনি অভিযান’ নামে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’। জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে মাত্র ৪ ঘণ্টার অভিযানে মাদকসেবী ও কারবারিসহ ১৩৯ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশের এই ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’র পর থেকে মাদক জগতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু হয়েছে। মাদক ও অপরাধমুক্ত মহানগরী না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। তবে এ মিশনে পুলিশের একার পক্ষে সফল হওয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং। এজন্য সবশ্রেণির নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন।