বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁর রানীনগরের অসহায় দরিদ্র নারীদের পাশে দাঁড়াল দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা দেশের শীর্ষ শিল্প পরিবার বসুন্ধরা গ্রুপ। পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ অসচ্ছল পরিবারের অসহায় নারীর জন্য বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে তারা। প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষ হয়ে যাওয়া নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ মার্চ উপজেলার ১৫ জন অসচ্ছল নারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বসুন্ধরা গ্রুপের উপহার হিসেবে সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।
1234তিন মাসের সফল প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন উপহার পেয়ে আবেগাপ্লুত হন দরিদ্র পরিবারের নারীরা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের প্রতি। রানীনগর উপজেলা পরিষদের হলরুমে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট সরদার সালাউদ্দিন। সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি শামীম আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত রাফি, প্রচার সম্পাদক শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান হাসিব, রানীনগর উপজেলা শাখার সভাপতি এস এম সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, কালের কণ্ঠ নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি ফরিদুল করিম তরফদার, বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলা প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম জেন্টু প্রমুখ।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে জাকারিয়া জামান বলেন, ‘সারা দেশে গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বসুন্ধরা গ্রুপের মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশনায় প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের নেতৃত্বে সারা দেশে কাজ করে বসুন্ধরা শুভসংঘ। দরিদ্র পরিবারের অসচ্ছল নারীদের টেকসই উন্নয়নের জন্য আমরা প্রথমে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলছি।
প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁরা যখন নিজেদের কাজ করার উপযোগী করে গড়ে তুলছেন, তখনই বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে তাঁদের সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হয়। গত তিন বছরে তিন হাজারের বেশি নারী বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়েছেন। আমাদের এই সহায়তা কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।’
রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে অসচ্ছল নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ বসুন্ধরা শুভসংঘের খুবই মহৎ উদ্যোগ। এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে নারীরা অসচ্ছলতাকে পেছনে ফেলে সচ্ছলতার পথে এগিয়ে যাবেন।
তাঁদের এই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁরা স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং সংসারে অবদান রাখতে পারবেন। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় শুভসংঘের সব মানবিক কাজ অব্যাহত থাকুক।
কৃষক বাবার সন্তান বর্ষা। উপজেলার মিরাট ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামে তাঁদের বাড়ি। দরিদ্র পরিবারের মেয়ে বর্ষা নওগাঁ সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী। অভাবের কারণে ঠিকমতো পড়তে পারছেন না। এলাকায় কয়েকটি টিউশনি করেন। কেউই সময়মতো টাকা দেয় না। নিজের খরচ নিজেই চালাতে চেষ্টা করেন, কিন্তু কোনোভাবেই পারছিলেন না। বিনামূল্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের খোঁজ পেয়ে কাজ শিখতে এসেছিলেন। কাজ শেখার পর সেলাই মেশিন পাবেন শুনেছিলেন, কিন্তু বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। যখনই সেলাই মেশিনের সামনে চেয়ার নিয়ে বসলেন, এবার যেন কিছুটা বিশ্বাস হলো। হাত দিয়ে বারবার ছুঁয়ে দেখছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে উপহার পাওয়া সেলাই মেশিনটি। স্বপ্ন, না সত্যি—এটি বুঝতে অনেকে যেমন করে নিজের শরীরে চিমটি কাটে, তেমন করে হাত দিয়ে টোকা দিচ্ছিলেন মেশিনে। মনে মনে হাসছিলেন, এবার বুঝি স্বপ্ন সত্যি হলো। এখন আর পড়ার খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবার চোখে তাঁর কয়েক ফোঁটা অশ্রু দেখা দিল। বললেন, ‘এটা আনন্দের কান্না। এমন করে তো কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। বসুন্ধরা গ্রুপ প্রমাণ করল তারা দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত। বসুন্ধরা শুভসংঘ দরিদ্র মানুষের দুঃখ বোঝে। তারা শুভ কাজে সবার পাশে থাকে। মানুষের কল্যাণে শুভ কাজ অবিরত চলুক—এই দোয়া করি।’