দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচিত নেতত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই (ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি)। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১১ সেপ্টেম্বর ফেডারেশনের পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য মো. হাফিজুর রহমানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। হাফিজুর রহমানের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পরবর্তীতে গত বছরের ২৭ অক্টোবর অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খানকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দেড় বছরের বেশি পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রশাসকই এফবিসিসিআই নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হননি। এ অবস্থায় ব্যবসায়ী সমাজে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদ আমলা প্রশাসক বাতিল করে ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্বশূন্য থাকায় দেশের ব্যবসাবাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এফবিসিসিআই দেশের প্রায় ৪ কোটি ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিত্ব করে। জাতীয় রাজস্ব আয়ের প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা আসে ব্যবসায়ী সমাজের মাধ্যমে। এ ছাড়া দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশই সৃষ্টি হয় বেসরকারি খাতে। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেতৃত্ব না থাকায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, আমদানি-রপ্তানি নীতি, শুল্কহার, বাজেট কিংবা আর্থিক খাতসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে সরকারের সঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের কার্যকর পরামর্শ প্রক্রিয়া থাকা জরুরি। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসক দ্বারা পরিচালিত সংগঠনটি সেই ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করতে পারছে না।
আগামী জুন মাসে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষমতার প্রথম ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজের মতে, এসব উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, সুদের হার হ্রাস, বন্দর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং ব্যবসাবান্ধব নীতি সহায়তা অপরিহার্য। এসব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার জন্য এফবিসিসিআইয়ে একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী নেতৃত্ব এখন সময়ের দাবি। এফবিসিসিআই সংস্কার পরিষদের সদস্যসচিব মো. জাকির হোসেন বলেন, বর্তমান আমলা প্রশাসকের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ। আমরা নতুন করে কোনো আমলাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে প্রশাসক করার দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, অতীতে একজন ব্যবসায়ী প্রশাসক সফলভাবে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবসায়ী সমাজের যৌক্তিক দাবিগুলো আদায়ে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং একই সঙ্গে নির্বাচনের পথ সুগম করেছিলেন। বর্তমান সংকটকালেও এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন। সংস্কার পরিষদের দাবি, ব্যবসায়ী প্রশাসক নিয়োগের মূল উদ্দেশ্য হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে এফবিসিসিআই নির্বাচন আয়োজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা। এতে সংগঠনের নেতৃত্বশূন্যতা কাটবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থবিরতা দূর করতে ব্যবসায়ী সমাজ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। ব্যবসায়ী সমাজের প্রত্যাশা, সরকারের সর্বোচ্চ মহল এ দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এবং এফবিসিসিআইকে আবারও শক্তিশালী, প্রতিনিধিত্বশীল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেবে।