‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গতকাল রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল প্রথম দিনে সারা দেশে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জনকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের ৪ কোটি পরিবারে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালু হলো।
ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী এবং তাদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না করে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতেই সরকার এই কর্মসূচি চালু করেছে। এ সময় পাশে ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা, শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তারেক রহমান বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে ১৪টি জায়গায় বা ১৪টি উপজেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এই মুহূর্তে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশগ্রহণ করছেন। আমাদের কড়াইল, ভাষানটেক এবং সাততলা-এই তিন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই কার্ডের সুবিধার আওতায় আজকে নিয়ে আসা হয়েছে।’
কড়াইল প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে যে ৪ কোটি পরিবার রয়েছে, সেই ৪ কোটি পরিবারে যাঁরা নারীপ্রধান, তাঁদের কাছে আগামী ৫ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।’
সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের ওয়াদা দিয়েছিলাম। এক মাস পূরণের আগেই আমরা তা পূরণ করতে পেরেছি। সেজন্য শুকরিয়া আদায় করছি। আজকের দিনটি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ, স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন। কারণ, আপনাদের প্রত্যক্ষ ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই আমরা জবাবদিহি করতে বাধ্য।’ অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের একজন রাশেদা। উদ্বোধনের পর তিনি অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা চলে এসেছে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আজ বাস্তবায়িত হলো। এই কার্ড নিয়ে রাজনীতি, দুর্নীতি করার কোনো সুযোগ নেই। সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড আজ স্বপ্ন নয়। ফ্যামিলি কার্ড আজ সবার দোরগোড়ায়। ফ্যামিলি কার্ড একটি ভরসার নাম, আস্থার নাম।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলো ভাতা পাবে। ভাতার টাকা যাবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তাঁরা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন। কোনো পরিবারের সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না।
এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ, যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না। সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে।