এবারের ঈদুল আজহার টিভি এবং ইউটিউবে প্রচারিত নাটকের কথাই যদি ধরি তাহলে দেখা যাবে কমপক্ষে ১০টি নাটক দর্শক মন জয় করেছে। অপরদিকে একই ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ৯টি সিনেমার মধ্যে একটিও দর্শক মন কাড়তে পারেনি। তার মানে সিনেমার চেয়ে বর্তমানে এদেশে নাটক এগিয়ে আছে। এই চিত্র শুধু গত ঈদুল আজহার নয়, কমপক্ষে গত কয়েক বছর ধরে একই চিত্রই দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের ঈদুল ফিতরে পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল। তার মধ্যে রয়েছে, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, ‘দম’, ‘প্রিন্স’, ‘প্রেসার কুকার’, ‘রাক্ষস’। এ ছবিগুলোর মধ্যে শুধু ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ একটি দর্শক দেখেছে। বাকিগুলো ব্যবসা করতে পারেনি। আর ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া সিনেমার মধ্যে ছিল- ‘রকস্টার’, ‘রইদ’, ‘মালিক’,‘মাসুদ রানা’, ‘পিনিক’, ‘বনলতা সেন’। এর মধ্যে ‘রইদ’ সেই এক শ্রেণির দর্শক দেখেছে। বাকিগুলোর ব্যবসায়িক অবস্থা উল্লেখ করার মতো নয়। আর ইউটিউব ও টিভি চ্যানেলে অবমুক্ত হয়ে যে নাটকগুলো দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে সেগুলো হলো- ‘তোমাদের গল্প ২’, ‘মায়াপাখি’, ‘আবার হবে দেখা’, ‘তোর মায়ায়’, ‘ওয়ারিশ’, ‘অচেনা আমি’ প্রভৃতি।
‘রকস্টার’ ছবিতে শাকিব খান ও সাবিলা নূর
২০২৫ সালের রমজানের ঈদে ৯টির মতো সিনেমা মুক্তি পেলেও ব্যবসা সফল হয়েছে শুধু ‘বরবাদ’। এরপর কিছুটা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে ‘জংলি’। অপরদিকে একই বছরের রমজানের ঈদে ৫টি নাটক ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে শীর্ষে ছিল। সর্বাধিক দেখা নাটকের মধ্যে ছিল ‘মন দুয়ারী’, এ নাটকটি প্রথম সপ্তাহে ১ কোটি ৮০ লাখ দর্শক দেখেছেন। ‘রক্তের বাঁধন’ নাটকটি ৬৪ লাখের বেশি দর্শক দেখেছেন। এরপর ‘লাল টুকটুকে বউ’ নাটকটি ৫০ লাখ দর্শক দেখেছেন। নাটকের মধ্যে ট্রেন্ডিংয়ে ৪ নম্বরে ছিল ‘অফলাইন ভালোবাসা’। এরপর ‘পাঁজর ৩’ নাটকটি দেখেছেন ৫০ লাখ দর্শক। ২০২৪ সালের ঈদে একমাত্র ‘তুফান’ ছবিটি হিট হয়েছে। অন্যদিকে দর্শকপ্রিয় নাটকের মধ্যে ছিল ‘শ্বশুরবাড়িতে ঈদ’, ‘মামার বাড়ি’, ‘চাচা ভাতিজা জিন্দাবাদ’, ‘বান্ধবীর ভাই’, ‘শুধু তোমার জন্য’, ‘জামাই বউর মাথা গরম’, ‘লাভ লাইন’ ‘আমার হয়ে থেকো’, ‘একবার বলো ভালোবাসি’ ‘তুই আমারই’ প্রভৃতি। প্রখ্যাত সাংবাদিক ও গবেষক অনুপম হায়াৎ এ প্রসঙ্গে বলেন, আসলে আমাদের দেশের মানুষ নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিবারের গল্প পর্দায় দেখতে চায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এদেশের সিনেমা দেশীয় সংস্কৃতি বিবর্জিত হয়ে পড়েছে। পশ্চিমা সংস্কৃতির আদলে খোলামেলা আইটেম গান, ভয়াবহ ভায়োলেন্স, পরিবারহীন গল্প, গানে মাধুর্য না থাকা ইত্যাদি আরও অনেক কারণে ঢাকাই সিনেমা বিমুখ হয়ে পড়েছে দর্শক। এদেশের নাটকও একটা সময়ে এসে দর্শক পছন্দের গল্পে নির্মাণ হচ্ছিল না। ভাঁড়ামি, আর প্রেমের সস্তা প্যানপ্যানানি নির্ভর হয়ে পড়েছিল। তাই নাটকও দর্শকপ্রিয়তা হারায়। কিন্তু গত দুই তিন বছর ধরে নাটকের গল্পে আবার দেশীয় পারিবারিক আবহ ফিরে এসেছে। তাই দর্শক এখন আবার নাটক দেখতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। একারণেই বলা যায়, বর্তমান সময়ে এদেশে সিনেমার চেয়ে দর্শক পছন্দে এগিয়ে আছে নাটক।