টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টিতে কোথাও হাঁটুসম, কোথাও কোমরসম আবার কোথাও বুকসম পানিও জমেছে। গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কখনো মুষলধারে, কখনো থেমে থেমে টানা বৃষ্টি হয়েছে। তবে দুপুরের পরের বৃষ্টিতেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, অফিসগামী ও শিক্ষার্থীরা। বেকায়দায় পড়েন এইচএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম আমবাগান আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, কালবৈশাখির কারণেই এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিন ঘণ্টা পরপর বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হিসাব করা হয়। তবে আগামী দিনগুলোতেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। নগরে জলাবদ্ধতার কারণে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কাও রয়েছে। আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দরসমূূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, নগরের প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, নগরের জিইসি মোড়, কাতালগঞ্জ, আগ্রাবাদ, হালিশহর, নিউমার্কেট, তিন পুলের মাথা, বহদ্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বেশি শোচনীয় অবস্থা হয়েছে প্রবর্তক মোড় ও মুরাদপুর এলাকায়। এখানে বুকসম পানি হয়ে যায়। দুপুরের দিকে প্রবর্তক মোড়ের বড় অংশ ডুবে যায় কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে। এখানকার বদনা শাহ মাজার গেট থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত পুরো সড়ক ডুবে গেছে। ওই অংশে হিজড়া খালের সম্প্রসারণকাজ চলছে। খালের মুখে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ পানিনিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে খালের পানি উপচে সরাসরি সড়কে উঠে যায়। পানির কারণে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। সামান্য একটি অংশ পার হতেই অনেক সময় লাগে। অনেক এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চাকা পানিতে ডুবে যায়। কোথাও কোথাও পথচারীদের বুকসম পানিতে হাতিয়ে হাতিয়ে চলতে হয়েছে।
প্রবর্তক মোড় এলাকার পথচারী জামাল উদ্দিন বলেন, বর্ষা আসার আগেই এমন দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হলো। সামনে কি অবস্থা হবে?
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রবর্তক এলাকায় সিডিএ জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগাপ্রকল্পের কাজ করছে।
এ কারণে সাময়িকভাবে পানিপ্রবাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তবে উন্নয়নকাজ শেষ হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। জলাবদ্ধ এলাকা মেয়রের পরিদর্শন : চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন গতকাল নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান উন্নয়নকাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সকালে তিনি মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ ও প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন।