বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কুয়াকাটাসংলগ্ন সাগর বেশ উত্তাল রয়েছে। ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বাড়তে শুরু করেছে নদনদীর পানি। গতকাল সকাল থেকে উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের চাপ কিছুটা বেশি। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ রেখে জেলেরা শত শত ট্রলার নিয়ে মৎস্যবন্দর আলিপুর-মহিপুর আড়তঘাটে ফিরে এসেছেন। এদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ ও উজানের অববাহিকায় টানা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তারা জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশে এরই মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে দেশের প্রধান প্রধান নদনদীর পানি বাড়তে পারে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বন্যার কোনো আভাস নেই এখন। গতকাল সন্ধ্যায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এতে বৃষ্টি বেড়ে কমতে পারে তাপপ্রবাহ। তবে লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরসমূহ, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়া হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এজন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে চট্টগ্রাম, পায়রা, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা, ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বাড়তে পারে প্রধান নদনদীর পানি : পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গতকাল জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ ও উজানের অববাহিকায় টানা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরীণ সিলেট বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশে এরই মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে দেশের প্রধান প্রধান নদনদীর পানি বাড়তে পারে। তবে বন্যার কোনো আভাস নেই এখন।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকা : গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়েছে। তবে যমুনা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী এক দিন ব্রহ্মপুত্রের পানি আরও বাড়তে এবং পরবর্তী চার দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা : গঙ্গার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে, যা আগামী দুই দিন আরও বাড়তে পারে। অন্যদিকে পদ্মার পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী পাঁচ দিন তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে স্বস্তির খবর হলো, উভয় নদীই এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুরমা-কুশিয়ারা (আপার মেঘনা) : উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এ নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। আগামী এক দিন পানি স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী দুই দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। চট্টগ্রাম বিভাগ : গত ২৪ ঘণ্টায় মুহুরী, গোমতী ও ফেনী নদীর পানি বেড়েছে; তবে হালদা, সাঙ্গু, সেলোনিয়া ও মাতামুহুরীর পানি হ্রাস পেয়েছে। আগামী এক দিন এ নদীগুলোর পানি ধীরগতিতে বাড়লেও পরবর্তী দুই দিন দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ : মনু নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বাড়লেও ধলাই, খোয়াই, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংসের পানি কমেছে। তবে আগামী তিন দিন এ নদনদীগুলোর পানিসমতল আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। রংপুর বিভাগ : উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে এবং আগামী তিন দিনও এ নদনদীগুলোর পানি হ্রাস পাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ঘাঘট তিস্তার পানি বৃদ্ধি : গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কমেছে করতোয়া নদীর। এসব নদনদীর পানি বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গতকালের বেলা ৩টার তথ্যানুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ৬ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১১০ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘাঘট নদের পানি ১ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৬৫ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সাগর উত্তাল, জেলেরা ফিরেছেন মৎস্যবন্দরে : আবহাওয়া অফিস সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে এবং এর প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের পায়রাসহ চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে। ফলে জেলেরা মৎস্যবন্দর আলিপুর-মহিপুর আড়তঘাটে ফিরে এসেছেন। মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি দিদার উদ্দিন আহম্মেদ মাসুম জানান, সাগর উত্তাল থাকায় অধিকাংশ ট্রলার ফিরে ফিরে এসেছে। জেলে আবুল মিয়া বলেন, ‘এ বছর সমুদ্রে তেমন মাছ পাচ্ছি না। কয়েক দিন আগে সাগরে গিয়েছি। এর মধ্যে আবহাওয়া খারাপ হয়েছে। প্রচ- ঢেউ, টিকে থাকই দায়। তাই জাল গুছিয়ে ট্রলার নিয়ে তীরে ফিরে এসেছি।’ জেলে সৈয়দ মাঝি বলেন, ‘সাগরে অনেক বড় বড় ঢেউ। শুক্রবার সকালে গভীর সমুদ্র থেকে এসে আশাখালী মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে নোঙর করে আছি।’