লালমনিরহাটে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বিএসএফ। সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ ইস্যুতে বিজিবি কড়া অবস্থান নেওয়ায় দুই জেলায় পিছু হটতে হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া ১২ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে চার দিন পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। অন্যদিকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি সীমান্তে এক ভারতীয় বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী। রাতে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে ওই বৃদ্ধকে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে কাঁটাতারের লাইট নিভিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। রবিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুরইউনিয়নের আজিজপুর সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে আকস্মিক ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে স্থানীয় সীমান্তবাসীর মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকে বিজিবি সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা ও টহল জোরদার করেছে।
বিজিবি ও সীমান্ত এলাকার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) এর আওতাধীন শ্রীরামপুর বিওপির মেইন পিলার ৮৫৪-এর ১০-এস উপ-পিলারের বিপরীত দিকে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের দাউয়াকুমারী ক্যাম্পের একটি টহল দল। রবিবার রাতে বিএসএফ সদস্যরা পাঁচজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পুশইন করার চেষ্টা চালায়। এ সময় পুশইন নির্বিঘ্ন করতে তারা সীমান্তের কাঁটাতারের বাতি নিভিয়ে অন্ধকার তৈরি করে। বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্থানীয় গ্রামবাসী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। গ্রামবাসী ও বিজিবির কঠোর বাধার মুখে পড়ে বিএসএফের পুশইনের সেই অপচেষ্টা ভেস্তে যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএসএফ টহল দলের সদস্যরা বাংলাদেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ভারতের অভ্যন্তরে পিছু হটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) সহকারী পরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের অপচেষ্টা নসাৎ করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত।
কুষ্টিয়া : গতকাল সকালে কুষ্টিয়ার প্রাগপুর সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর ১২ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিজিবি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভোরে নারী, পুরুষ, শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে নেয় বিজিবি। পরবর্তী কয়েক দফা বৈঠকে বিএসএফ প্রথমে দায় স্বীকার না করলেও বিজিবির আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদের পর বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেয়। অবশেষে সোমবার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নেয়। পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে উজির আলী, তার স্ত্রী জয়নুর বেগম, দুই সন্তানসহ কয়েকটি পরিবারের সদস্য ছিলেন। কয়েক দিন শূন্যরেখায় অবস্থান, তীব্র গরম, মশার উপদ্রব ও মানবেতর পরিস্থিতির কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তে রোববার সকালে ৭০ থেকে ৭৫ বছর বয়সি এক ভারতীয় বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয় কৃষকরা ওই বৃদ্ধকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি ও গ্রামবাসীদের সহায়তায় তাকে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানো হলেও বিএসএফ তাকে শূন্যরেখায় বসিয়ে রাখে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ পিছু হটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাতে সীমান্ত এলাকার লাইট বন্ধ করে বৃদ্ধকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় বিএসএফ। বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন প্রতিরোধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।