চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার রাজা মিয়া সওদাগর জামে মসজিদের ভেতর থেকে ইমামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।  


উদ্ধারকৃত ব্যক্তির নাম মো. আমির হোসেন (৪৩)। তিনি ১৩ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায়। তিনি মসজিদের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে থাকতেন।  


মৃত্যুর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে নিজ কক্ষে লিখে গেছেন একটি চিরকুট।


পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে আসরের  নামাজে ইমামতি করেছিলেন মো. আমির হোসেন। তবে মাগরিবের নামাজের সময় মুসল্লিরা গিয়ে দেখেন ইমাম নেই, মসজিদে তালা লাগানো। পরে রাতে এশার নামাজের সময়ও মসজিদ তালাবদ্ধ দেখেন মুসল্লিরা। এতে সন্দেহবশত মসজিদের দোতলার জানালা দিয়ে ভেতরে উঁকি দেন। তাঁরা দেখতে পান, মসজিদের দোতলায় সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ইমামের মরদেহ ঝুলছে। পরে থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।


মসজিদটির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইফতেখার আহমেদ বলেন, মুসল্লিরা মাগরিবের সময় মসজিদ তালাবদ্ধ দেখে ভেবেছিলেন, ইমাম হয়তো বাইরে কোনো কাজে গিয়ে আটকে পড়েছেন। পরে দীর্ঘ সময় খোঁজ না পেয়ে মানুষের সন্দেহ হয়। তখন উঁকি দিয়ে লাশটি দেখতে পান। ফ্যানের হুকের সঙ্গে সবুজ রঙের একটি কাপড় গলায় প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিচে একটি মই পড়ে ছিল। পাশে থাকা ইমামের কক্ষে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে পারিবারিক কলহের বিষয়ে কিছু কথা লেখা রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, মৃত্যুর আগে ইমাম আমির হোসেন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘যার জীবনে দুঃখ ছাড়া কিছু নাই, তাকে দেখায় কষ্টের ভয়’।  


সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। উদ্ধার হওয়া চিরকুটটি তাঁর লেখা কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। তবে পারিবারিক কলহ থেকে ওই ইমাম আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।