গোপালগঞ্জের কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদক জিতেছেন ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর। এমন এক সময়ে এই পদকে ভূষিত হন, যখন তিনি রাজধানীতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।


এ রকম খবর শোনার পর একজন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীর কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার অর্জনের গল্প তো সবিস্তারে জানতেই হবে।

পড়াশোনার ফাঁকে অন্য জীবনের বহু গল্প আমাদের জানা। তবে এই ফারহিন কী ধরনের কৃষিকাজ করেন? কোথায় তাঁর খামার? ইত্যাদি প্রশ্ন মাথায় নিয়ে শুরু হয় আমাদের অনুসন্ধান।


২০২৪ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহের এক দিন।


ঢাকায় ভোরের আলো তখনো ফোটেনি। গুলিস্তানে একটি নন-এসি বাসে চেপে বসলাম আমরা। গন্তব্য গোপালগঞ্জ। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ছুটতে ছুটতে মাথায় নানা প্রশ্ন—আমরা কি শুধুই একটি কৃষিখামারের খোঁজে বেরিয়েছি? নাকি দেখব এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে অজানা অনেক গল্প!

যে ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীরের খোঁজে আমরা বেরিয়েছি, তিনি যে আর কেউ নন, তৎকালীন আইজিপি বেনজীর আহমেদের মেয়ে।


বেনজীর আহমেদ নামটি ছিল তখন ক্ষমতার আরেক নাম। চরম পরাক্রমশালী, দোর্দণ্ড প্রতাপশালী—এসব উপমাও কম হয়ে যায়।


আমরা পৌঁছে গেলাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল গ্রামে। একদম সুনসান নিভৃত এক পল্লী। কোনো যান্ত্রিকতা নেই।


শহরের মতো যান-জনের জটলা নেই। এমন এক গ্রামের বুক ফুঁড়ে দাঁড়িয়ে আছে অবিশ্বাস্য এক স্থাপনা। নাম—সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক। ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীরের কৃষিতে স্বর্ণপদক লাভের সঙ্গে এই রিসোর্টের যোগসূত্রের তথ্য আমাদের কাছে ছিল।

রিসোর্টের ভেতরে ঢুকতেই চক্ষু যেন চড়কগাছ। গাছগাছালি, পুকুর, শান-বাঁধানো ঘাট, কৃত্রিম ঝরনা—কী নেই। রিসোর্টজুড়ে সমৃদ্ধির বাহার। জমির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৪০০ বিঘা। গুনে গুনে ১৫টি পুকুর। সব পুকুরেই চারদিকে গার্ডওয়াল। পুকুরের পার ঘেঁষেই বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স কটেজ। এগুলোর ভাড়া প্রতি রাতে ১৫ হাজার টাকা।


মাটি ভরাট করে বানানো হয়েছে কৃত্রিম টিলা-পাহাড়। সাগরের কৃত্রিম ঢেউ-খেলানো সুইমিংপুলও রয়েছে। আছে হাজারের বেশি ভিয়েতনামি নারকেলগাছসহ নানা ফলফলাদির গাছপালা। রয়েছে উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেমসহ বিশাল আকারের কনসার্ট হল। পুরো রিসোর্ট আলোয় ঝলমল।


রিসোর্টের ম্যানেজারের সঙ্গে সখ্য জমিয়ে আলাপ জুড়ে দিই। তখনই নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন রিসোর্ট। এখান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে এই গোপালগঞ্জেই জন্মভিটা বেনজীর আহমেদের। এত বড় রিসোর্ট বানানোর পর এখন ওই এলাকার নামই হয়ে গেছে ‘বেনজীরের চক’।


কিন্তু আসল গল্প তখনো জানা যায়নি। রিসোর্টের প্রধান ফটকের ডান পাশে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে সেই দোকানে ঢুকি। দেখি, দোকানে বসে আছেন এক বৃদ্ধ। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আলাপ জমিয়ে তুলি। এক পর্যায়ে জানতে চাই, ‘এত বড় রিসোর্টের সামনে দোকান বসিয়েছেন, কেউ কিছু বলে না?’


কথাটা শোনামাত্র চোখমুখ লাল হয়ে যায় বৃদ্ধের। যেন জমিয়ে রাখা ক্ষোভ ঝাড়তে শুরু করেন। বলেন, ‘যত বড় রিসোর্টের কথা বলছেন, ওইটার ভেতরে সব তো আমাদের জমিজমা; ওই বেনজীর জোর খাটিয়ে সব দখল করে রেখেছে।’


একটিমাত্র বাক্য। আর সেই বাক্যই বদলে দেয় আমাদের অনুসন্ধানের গতিপথ। খুলে দেয় অমীমাংসিত প্রশ্নের দরজা-জানালা।


দোকানি বৃদ্ধের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই এসে জড়ো হন আরো কয়েকজন। তাঁদের সবার গল্পই প্রায় এক। কারো জমি গেছে, কারো পুকুর গেছে, কারো বাপ-দাদার ভিটামাটি গেছে ওই রিসোর্টে। কিন্তু কেউ ভয়ে কিছু বলতে পারেননি।


সেদিন সন্ধ্যায় আমরা গোপালগঞ্জে থেকে গেলাম। পরদিন সকালেই আবার বেরিয়ে পড়লাম। কয়েক দিন ঘুরে বেড়ালাম গোটা এলাকায়। অনেকের সঙ্গে কথা বললাম। সবার অভিযোগ-বক্তব্য শুনলাম। ধীরে ধীরে নানা সত্য তথ্য উন্মোচিত হতে শুরু করল।


দেখা গেল, সাভানা ইকো রিসোর্টের ভেতরের বিপুল পরিমাণ জমি স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের। বিশেষ করে ‘বল’ সম্প্রদায়ের বহু পরিবার নিজেদের জমি হারানোর অভিযোগ করছে।


আরো নানা বিস্ময়কর তথ্যভাণ্ডার মগজে নিয়ে ফিরে আসি ঢাকায়। শুরু হয় আমাদের দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুসন্ধান। অনুসন্ধানী সেলের প্রায় সবাই একযোগে নেমে পড়লেন।


এর মধ্যে সামনে আসে আরেক বিস্ময়কর তথ্য। যাঁর কৃষি পদক লাভের তথ্য দিয়ে আমাদের অনুসন্ধানের শুরু, সেই ফারহিনের জন্য নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে কেনা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। শুধু ক্লাসের ফাঁকে মেয়ের বিশ্রামের সুবিধার জন্য বাবা বেনজীর কিনে দিয়ছেন এই ফ্ল্যাট। এর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।


এরপর জানা গেল, তিনি কৃষি নয়, জাতীয় মৎস্য পদক-২০২২ লাভ করেছিলেন। তখন তাঁর বাবা বেনজীর আহমেদ পুলিশপ্রধান এবং মা জীশান মীর্জা বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী।


আমাদের অনুসন্ধান এগোতে লাগল।


আমরা বেনজীরের আরেকটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের খোঁজ পেয়ে যাই গুলশান ১ নম্বরে। ১৩০ নম্বর সড়কের ‘র‌্যাংকন আইকন টাওয়ার লেক ভিউ’ ভবনের ১২ ও ১৩তম তলায় বেনজীরের আট হাজার ৬০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থাকার তথ্য পাই। এক বিকেলে আমরা সেই বাড়িতে গিয়ে হাজির হই। নিরাপত্তারক্ষী মো. সবুজ নিশ্চিত করেন, ওই বাড়ির দুটি ফ্লোরের মালিক বেনজীর। কিন্তু প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ভেতরের অবস্থা সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।


তখন আমরা ভবনটির নির্মাতা র‌্যাংকন ডেভেলপমেন্টের ওয়েব সাইটে ঢুকি। থ্রিডি ভিজ্যুয়াল দেখে আমরা ভবনের ভেতরের সম্ভাব্য অবকাঠামো, নকশা ও বিলাসিতার চিত্র পাই। আট হাজার ৬০০ বর্গফুটের এই অ্যাপার্টমেন্টের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।


একের পর এক তথ্যে আমরা চমকে উঠছিলাম। এর মধ্যে আমরা রেজিস্ট্রার অব জয়েন স্টক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ভূমি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় তালাশ দিয়ে বেনজীরের সাম্রাজ্যের অনেক নথিপত্র জোগাড় করি। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলে আমাদের অনুসন্ধান।


বেনজীরের বিশাল সাম্রাজ্যের মূল্য কত কোটি টাকা, এই হিসাব বের করা তখনো সম্ভব হচ্ছিল না। কারণ একের পর এক এলাকায় পরিবারটির সম্পদের তথ্য পাচ্ছিলাম আমরা। তবে গোপালগঞ্জ জেলা সদরের সাহাপুর ইউনিয়নের বৈরাগীটোল এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা পাই।


তখন আমরা হিসাব করে দেখি, ৩৪ বছর সাত মাসের চাকরিজীবনে বেতন-ভাতা মিলিয়ে দুই কোটি টাকার মতো আয় করেছেন বেনজীর আহমেদ। সেখান থেকে আবার পরিবারের ভরণ-পোষণ হয়েছে। তাহলে কী করে তিনি এই বে-নজির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, এই প্রশ্ন ওঠে।


তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। তাদের স্বৈরাচারী আচরণের কবলে গণমাধ্যম। হাত খুলে সবকিছু লেখার সুযোগ নেই। দুঃসাহস দেখাতে গেলে হয়তো জেল কিংবা গুম—এই আতঙ্কের মধ্যেই কালের কণ্ঠ সিদ্ধান্ত নেয়, বেনজীরের এই নজিরবিহীন দুর্নীতির গল্পটা ছাপানো হবে। কারণ দেশের মানুষ তাঁর ক্ষমতার চেহারা দেখে থাকলেও অবৈধ সাম্রাজ্য সম্পর্কে কিছুই জানে না।


অনুসন্ধান শেষ হলো মার্চের শেষ সপ্তাহে। ৩১ মার্চ ২০২৪ কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হলো ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’। প্রথম পৃষ্ঠায় ছয় কলামের মধ্যে পাঁচ কলামে চারটি স্টোরি ছাপা হলো। ‘মেয়ের বিশ্রামের জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকার ফ্ল্যাট’ এবং ‘বেনজীরের বৈধ আয় কত ছিল’ শিরোনামে দুটি সাইড স্টোরি ছিল সেই নিউজ-প্যাকেজে।


৩১ মার্চ সকালের আলো ফোটার আগেই দেশজুড়ে হৈচৈ পড়ে যায়। চেনা বেনজীরকে নতুন করে চিনল দেশবাসী। মাঝে এক দিন বিরতি দিয়ে ২ এপ্রিল কালের কণ্ঠে ছাপা হলো অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্ব। এবার মূল শিরোনাম ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’। এর সঙ্গে ‘সেন্ট মার্টিন-কক্সবাজারেও ভূ-সম্পত্তি’ শিরোনামে সাইড স্টোরি।


দেশের কয়েকটি এলাকায় বেনজীরের দখলবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় জনতা রুখে দাঁড়ানোর মধ্যেই ২১ এপ্রিল বেনজীরের দুর্নীতি তদন্তে দুদকে আবেদন করেন হিতকারী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। এবার নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর সঙ্গে ভয় ভাঙে দেশের অন্য গণমাধ্যমেরও। একযোগে শুরু হয় বেনজীরের অপকর্মের কাহিনি বর্ণনা। পাশাপাশি গণমাধ্যমে উঠে আসে সরকারি কর্ম কমিশনের প্রশ্ন ফাঁসের হোতা ড্রাইভার আবেদ আলীর ঘটনা। ওই বছরের জুনে সামনে চলে আসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মতিউর রহমানের বিলাসী দুর্নীতি—ছাগলকাণ্ড। এভাবে ধীরে ধীরে গলতে শুরু করে বহুদিনের কর্তৃত্ববাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট সাংবাদিকতার বরফখণ্ড।


তবে তার আগে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের নাটকীয় প্রতিক্রিয়া দেখান বেনজীর আহমেদ। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কুৎসার কিসসা আভি ভি বাকি হ্যায়।’ এমনকি দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে প্রমাণদাতাকে সেই সম্পদ বিনামূল্যে লিখে দেওয়ার চ্যালেঞ্জও তুলে ধরেন আরেক ফেসবুক পোস্টে।


তবে বেনজীরের কোনো হুমকিতেই অনুসন্ধানী সেলের সাংবাদিকরা হাত গুটিয়ে নেননি। বরং পর পর তুলে ধরেন আরো প্রতিবেদন। ‘২৪০ বিঘা জমির মালিক বেনজীরের স্ত্রী’, ‘মাদারীপুরেও বেনজীরের স্ত্রীর সাম্রাজ্য’, ‘১৯ কম্পানির মালিক বেনজীর পরিবার’, ‘চাকরির শেষ ৩ বছরেই কেনেন ৪৬৬ বিঘা’, ‘বেনজীরের কালো ৩ হাত’, ‘পুলিশ টেলিকমেও বেনজীরের ভূত’, ‘ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ইটভাটা দখলে নেন বেনজীরের শ্যালক’, ‘বেনজীর পরিবারের ৫০ বিঘা জমি গাজীপুরেও’—ধারাবাহিকভাবে এসব অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয় কালের কণ্ঠে।


একের পর এক নিউজাঘাতে শেষ পর্যন্ত আর নিজের চ্যালেঞ্জে অবিচল থাকতে পারেননি বেনজীর। ২০২৪ সালের ৪ মে বিমানবন্দর দিয়েই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি।


দুর্নীতির অকাট্য তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে কালের কণ্ঠে একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরও সরকার তাঁর বিষয়ে নীরব থাকায় ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে মানুষ।


এসব ইস্যুতে দেশ গরম হয়ে ওঠে। তেতে ওঠে মানুষ। বাড়তে থাকে জনরোষ। দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের মনের ভেতরে পুষে রাখা ক্ষোভ অগ্নিরূপ ধারণ করে। আর সেই আগুনে ছাই হয়ে যায় আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের দম্ভ। সাধারণ এক কোটা সংস্কার আন্দোলন নাটকীয়ভাবে রূপ নেয় সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে। এর পরের ইতিহাস সবার জানা।


তবে কালের কণ্ঠে সেই ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও তার ফলোআপ রিপোর্টগুলো প্রকাশের পর দুদকের পদক্ষেপ অব্যাহত ছিল। প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের মধ্য দিয়ে বেনজীরকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের দ্বারস্থ হয় সরকার। শেষ পর্যন্ত গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের একসময়কার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে দুবাই পুলিশ।