চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট থেকে স্টেশন রোড পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত। এ অংশে ফুটপাত আছে। কিন্তু তা অস্তিত্বহীন। ফলে ঝুঁকি নিয়ে এঁকেবেঁকে, নানা কষরত করে মূল সড়ক দিয়েই চলতে হয় পথচারীদের। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। আর যানজট তো থাকছেই। এ সড়কে যানজটে আটকে পড়ে রেল মিস করার ঘটনা নিত্য। এটি শুধু নিউমার্কেট এলাকা নয়, এমন চিত্র নগরের অনেক এলাকায়ই। আর নগরের বেশির ভাগ সড়কে যে ফুটপাত আছে তা বেদখল থাকে প্রায় সব সময়ই। মাঝে মাঝে পুলিশ অভিযানে চালিয়ে ফুটপাত ফাঁকা করলেও কয়েক দিন পরই তা পূর্ণ হয়ে যায়। শুধু যানজট নয়, সারা বছরই সঙ্গী হয়ে থাকে নানা সমস্যা-সংকট। ফলে চট্টগ্রাম নগরের বাসিন্দাদের অন্তহীন সমস্যায় দুর্বিষহ জীবন পার করতে হচ্ছে।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরের সমস্যা সমাধানের জন্য দুই দশকে নানা মেগা প্রকল্প থেকে শুরু করে উন্নয়ন প্রকল্প। তাতে খরচ হয়েছে লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। কিন্তু তাতে আহামরি কোনো সুরাহা হয়নি। বরং সমস্যা তিমিরেই থেকে যাচ্ছে। সরেজামিনে কয়েক দিন ঘুরে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে প্রধান যে নাগরিক সমস্যাগুলো চোখে পড়েছে তার মধ্যে আছে অসহনীয় যানজট। বর্ষায় থাকে জলাবদ্ধতা। বিদ্যুৎতের লোডশেডিং। সুপেয় পানির সংকট। শীত ও নানা সময়ে থাকে গ্যাসের সমস্যা এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ।


চট্টগ্রাম ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সভাপতি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ এনাম বলেন, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও বাণিজ্যিক রাজধানী। স্বাধীনতার পর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। অথচ চট্টগ্রাম থেকেই সিংহভাগ রাজস্ব দেওয়া হয়। তবু নাগরিকদের মিলছে না চিকিৎসা, সড়কগুলোর অবস্থা অত্যন্ত বেহাল, অপ্রতুল যানবাহন। তবে আশার কথা শুনিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নগর উন্নয়নে কাউকে কোনো ছাড় দিতে রাজি নই। এখন থেকে সব উন্নয়ন মাস্টরপ্ল্যান অনুযায়ী করার চেষ্টা চলছে।’


৭১ শতাংশ ফুটপাত বেদখলে : সিডিএর প্রিপারেশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যান (২০২০-৪১) প্রকল্পের আওতায় নগরের সড়ক ও ফুটপাতের অবস্থান জরিপ করা হয়। জরিপের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নগরের ৯৭ শতাংশ রাস্তার একাংশ দখলে। ৬৪ শতাংশ রাস্তায় পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা নেই। জরিপকৃত সড়কের ৮৩ শতাংশ এলাকায় ফুটপাত আছে। ৭১ শতাংশ ফুটপাত সম্পূর্ণ বা আংশিক দখলে। ৬৮ শতাংশ ফুটপাতে হাঁটার উপযোগিতা নেই। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই মূল সড়কে নেমে হাঁটতে হচ্ছে। নগরে ১৫১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৭ দশমিক ২৮ মিটার গড় প্রস্থের ১৫৫টি পাকা ফুটপাত আছে। 


অব্যস্থাপনায় বর্জ্য : নগরে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। এর মধ্যে চসিক সংগ্রহ করে ২ হাজার ২০০ টন, বাকিগুলো ড্রেন-নালা-খাল হয়ে সরাসরি পড়ে কর্ণফুলী নদীতে। ফলে নগরের অধিকাংশ ড্রেন-খালই এখন বর্জ্যরে ভাগাড়। নগরের সড়ক, ফুটপাতে পড়ে থাকে বর্জ্য।


ক্ষতবিক্ষত ১৯৭ কিমি সড়ক : ৫ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা বর্ষণে নগরের ১৯৭ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়। বৃষ্টিতে নগরের অধিকাংশ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন, ইট, বালু ওঠে যায়। তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এসব সড়ক সংস্কারে চসিক প্রাথমিকভাবে ৩৪৭ কোটি ৮২ লাখ ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে হিসাব করছে। সড়ক সংস্কারে দুই মন্ত্রণালয়ের কাছে ২৬০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ চেয়ে চিঠিও দিয়েছে সংস্থাটি।