ফেনী পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড় বাড়ির হাজারী রোড এলাকা জলাবদ্ধতা যেন নিত্যসঙ্গী। বৃষ্টি না হলেও সড়কের নোংরা পানি আর দুর্গন্ধে অতিষ্ট শিক্ষার্থী, পথচারীসহ স্থানীয়দের। এতে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।


স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বর্ষা মৌসুম না হলেও সড়কে জমে থাকায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষ।


জানা গেছে, ফেনী পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড় বাড়ির পেছনে হাজারী রোড এলাকায় ৪৫০টিরও বেশি পরিবার বসবাস করেন। জনসংখ্যা আড়াই হাজারেরও বেশি। বৃষ্টি না হলেও দিনের পর দিন রাস্তায় জমে থাকে নোংরা পানি।এতে ভোগান্তির অন্ত নেই শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও পথচারীসহ স্থানীয়দের।


এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নোংরা পানির দুর্গন্ধে শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা রোগবালাই বাড়ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।


আবদুল জব্বার নামে এক শিক্ষক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বৃষ্টি না থাকলেও রাস্তায় নোংরা পানি জমে থাকে, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


ঘর থেকে বের হলেই নোংরা পানি দিয়ে চলাচল করতে হয় বলে জানান গৃহিণী দেলু বেগম। তিনি বলেন, শিশুদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। দুর্গন্ধে থাকা দায়, অসুস্থ হয়ে পড়ছে সবাই।


আর সুমাইয়া জাহান রেভা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, স্কুলে যাওয়ার সময় কখনও কখনও হাঁটু পর্যন্ত পানি দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। এই নোংরা পানি আমাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। অনেক সময় জ্বরে, ডায়রিয়া বা চর্মরোগ হয়। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিলে আমাদের শিক্ষাজীবন ও স্বাস্থ্য দুটোই সুরক্ষিত থাকবে।


দুর্ভোগ নিরসনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকি টেকই ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।