এক বছরে প্রধান উপদেষ্টাসহ ১৯ জন উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে। কমেছে তিনজন উপদেষ্টার। গতকাল প্রকাশ করা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।


গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট পরিসম্পদ ছিল ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকার। এক বছর আগে তা ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকার। অর্থাৎ, ১ বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকার। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে মোট সম্পদ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের মোট পরিসম্পদ ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকার। সে হিসাবে ১ বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকার। অধ্যাপক ইউনূসের কোনো দায় না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর ১৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকার দায় রয়েছে। আয়কর আইন অনুযায়ী, একজন করদাতার মালিকানাধীন স্থাবর-অস্থাবর, আর্থিক ও মূলধনি সম্পত্তির সমষ্টি হলো পরিসম্পদ। এ ছাড়া ১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ বেড়েছে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের। অন্যদিকে সম্পদ কমেছে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর।


সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের মোট পরিসম্পদ ছিল ১৫ কোটি ৯ লাখ ১৩ হাজার ১০২ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেটা হয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ ৯৫ হাজার ৪৮৩ টাকা। আদিলুর রহমান খানের সম্পদ ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৯ টাকা, অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের পরিসম্পদ ৪ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮৭ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ কোটি ৮৩ লাখ ১০ হাজার ৫৩৫ টাকা।


পরিবেশ উপদেষ্টার ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পরিসম্পদ ছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পরিসম্পদ কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকায়। ২০২৪ সালে পরিবেশ উপদেষ্টার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় ছিল ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৭৫২ টাকা, সেটা কমে হয়েছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮৭ টাকা। সুপ্রদীপ চাকমার পরিসম্পদ ২০২৪ সালে ছিল ১ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪১ টাকা, ২০২৫ সালে সেটা কমে হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পরিসম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকার, সেটা কমে হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকা।


২০২৪ সালের জুনে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেদ উদ্দিন আহমেদের পরিসম্পদ ছিল ৭ কোটি ১০ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা। ২০২৫ সালের জুনে তা ছয় লাখের মতো বেড়ে হয়েছে ৭ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬ টাকা। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পরিসম্পদ ছিল ১ কোটি ৪৮ লাখ ১০ হাজার ৪৩৩ টাকার, হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ২৩২ টাকা। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলমের সম্পদ ছিল ২ কোটি ৬১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৭৯ টাকা, ২০২৫ সালের জুনে হয়েছে ২ কোটি ৭৭ লাখ ২০ হাজার ৭৭৪ টাকা। খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের সম্পদ ৩ কোটি ৩৭ লাখ ১৫ হাজার ৪২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৪ টাকা, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারের পরিসম্পদ ৭ কোটি ২ লাখ ১ হাজার ১৬৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭ কোটি ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার ৪২২ টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সম্পদ ৬ কোটি ৪৭ লাখ ২০ হাজার ৩৯৭ টাকা থেকে হয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৫৫ হাজার ৩৩৭ টাকা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সম্পদ ২ কোটি ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৯ টাকা থেকে হয়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ১১ হাজার ১৫৮টাকা। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজমের (বীরপ্রতীক) সম্পদ ১ কোটি ৭৬ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৪ টাকা থেকে বেড়ে ২ কোটি ২ লাখ ৮ হাজার ৯২৯ টাকা, নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রি জে. (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের সম্পদ ৩ কোটি ২৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫১৭ টাকা থেকে ৩ কোটি ৫১ লাখ ১২ হাজার ৮৫৪ টাকা, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের সম্পদ ৬ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার ৮২৬ টাকা থেকে ৬ কোটি ২৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৩ টাকা, ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনের সম্পদ ৮৮ লাখ ১৫ হাজার ৭৭৪ টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ১৩ লাখ ৯২ হাজার ১০২ টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের সম্পদ ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৯২৯ টাকা থেকে বেড়ে ১ কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার ৬০ টাকা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদের সম্পদ ১০ কোটি ৬৫ লাখ ৯ হাজার ২৭৬ টাকা থেকে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৯ টাকা, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীনের মোট পরিসম্পদ ৯১ কোটি ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪২ টাকা থেকে বেড়ে ৯১ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৮৯৫ টাকা হয়েছে। সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের মোট পরিসম্পদ ২০২৪ সালের জুনে ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০২৫ সালের জুনে হয়েছে ১২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টিআইএন না থাকায় ওই অর্থবছরের হিসাব বিবরণী প্রকাশ করেননি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তার পরিসম্পদ ছিল ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকার।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। পরে কয়েক দফায় নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। সংযোজন-বিয়োজনের পর বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চারজন। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চার বিশেষ সহকারী দায়িত্ব পালন করছেন। আজ তাঁদের সবার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়।


জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের আর্থিক সম্পদ ২০২৪ সালে ছিল ২০ লাখ টাকা, সেটি ২০২৫ সালে ২২ লাখ টাকা হয়েছে। বিদেশে তার প্রায় ২২ লাখ টাকার সম্পদ আছে। সেটি মার্কিন মূল্যে আগে যা ছিল তাই আছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় ছিল, সেটি ২০২৫ সালে ১২ লাখ ডলারে নেমেছে।


এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী সরকারের কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেননি বলে মন্ত্রিপরিষদের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর উপদেষ্টার পদমর্যাদায় যোগদান করায় হিসাব বিবরণী দেননি। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লে. জে. (অব.) আবদুল হাফিজের মোট পরিসম্পদ ছিল ১২ কোটি ৭২ লাখ ৮৭ হাজার ৭১১ টাকা। সেটা হয়েছে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩৯ টাকা।