রাজধানী ঢাকার অন্যতম ব্যয়বহুল পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অটোরিকশা ও সিএনজির অনিয়ন্ত্রিত স্ট্যান্ড। সড়কের পাশে, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সেতুর প্রবেশমুখে এসব যানবাহন দাঁড় করিয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অন্যদিকে এসব স্ট্যান্ডের দৌরাত্ম্যে যানজট সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন মানুষ। শুধু এসব স্ট্যান্ডই নয়- যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংও হচ্ছে ভোগান্তির কারণ। এই রুটে যাতায়াতকারীরা বলছেন, ছুটির দিনগুলোতে অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে পূর্বাচলে ঘুরতে আসেন। কিন্তু সড়কে বিশৃঙ্খলার জন্য তাদের ভোগান্তি দিনদিন বাড়ছে। একই সঙ্গে যারা এই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করেন তারাও বিরক্ত হয়ে উঠছেন।


জানা গেছে, রাজধানীর ব্যস্ততা থেকে একটু স্বস্তি পেতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানুষ ছুটে আসেন পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কে। কেউ আসেন ঘুরতে, কেউ ছবি তুলতে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার বিকালে নীলা মার্কেট ও ৩ নম্বর সেতু এলাকায় বাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়। কিন্তু যে সড়ক হওয়ার কথা ছিল নির্বিঘ্ন যাতায়াতের, সেই সড়কেই এখন ভোগান্তির চিত্র। এতে স্বস্তির খোঁজে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সরজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশা ও সিএনজি সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখানেই চলছে যাত্রী ওঠানামা। নির্ধারিত পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের একটি অংশ কার্যত ব্যবহৃত হচ্ছে স্ট্যান্ড হিসেবে। চালকদের কেউ কেউ স্বীকার করছেন, এসব স্থানে গাড়ি দাঁড় করানোর নিয়ম নেই। তারপরও নিয়মের তোয়াক্কা না করে চলছে পার্কিং। এতে সড়কের জায়গা সংকুচিত হচ্ছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, বাড়ছে যানজটের ভোগান্তি। শুধু যানজট কিংবা যত্রতত্র পার্কিং নয়, অটোরিকশা-সিএনজির স্ট্যান্ড ও ছবি তোলার কাজে নিয়োজিত ক্যামেরাম্যানদের কার্যক্রম ঘিরেও উঠেছে অর্থ আদায়ের অভিযোগ। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, এসব কার্যক্রম থেকে প্রতিদিন অর্থ আদায় করা হয়। সড়কের বিশৃঙ্খলার বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক আলী আহমেদ বলেন, পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে যানজটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অটোরিকশা ও সিএনজি যত্রতত্র দাঁড় করিয়ে রাখা এবং ক্যামেরাম্যানদের কারণে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ হাজার কোটিরও বেশি ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সড়কটিতে নির্বিঘ্নে চলাচলই করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনিয়ন্ত্রিত স্ট্যান্ড, যত্রতত্র পার্কিং আর অর্থ আদায়ের অভিযোগ-সব মিলিয়ে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কের ব্যবস্থাপনা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তাই অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, নির্ধারিত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপেই ফিরতে পারে এই সড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ, নিশ্চিত হতে পারে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত।