নীলফামারী মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শিক্ষার পরিসর। তার চেয়েও দ্রুত বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সুযোগ-সুবিধা বাড়েনি। কলেজের একটি একাডেমিক ভবন সারাবছরই পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটে। তাই আলাদা একটি পরীক্ষা কেন্দ্র অথবা একাডেমিক ভবন নির্মাাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।
জেলার পাশাপাশি বাইরের অনেক শিক্ষার্থী এখানে লেখা পড়া করেন। কলেজে ছাত্রাবাস না থাকায় তাদের বাইরের ছাত্রাবাসে থাকতে হয় এবং নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। ফলে প্রতিদিন ক্লাস করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী এ কলেজে অধ্যায়ন করছে। উচ্চ মাধ্যমিক,ডিগ্রী পাস এবং ৬টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে।
মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজটি নীলফামারী সদর উপজেলায় ১৯৮৬ সালে ৩.৩৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠা করা হয়। কলেজে একটি শহীদ মিনার রয়েছে।যার কাজ এখনো অসমাপ্ত। কাজটি সমাপ্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। একটি ল্যাবরেটরি রয়েছে কিন্তু সমৃদ্ধ নয়। লাইব্রেরী থাকলেও এর যথাযথ কার্যক্রম নেই। কলেজ মাঠটিতে রয়েছে আংশিক বাবন্ডারী দেয়াল। নেই প্রধান ফটক। কলেজ মাঠটি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে জলবদ্ধতা সৃষ্ঠি হয়।এতে শিক্ষার্থীদের চলাচল এবং খেলাধুলায় ব্যাঘাত ঘটে।
কলেজ শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন,বর্ষার সময় কলেজ মাঠে পানি জমে থাকায় চলাচলের অসুবিধায় পড়তে হয়। মাঠে খেলাধুলা করতে সমস্যা হয়।
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মমিনুর রহমান বলেন, কলেজে ছাত্রাবাস না থাকায় বাইরের ছাত্রাবাসে থাকতে হয়।এতে আর্থিক সমস্যার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় পড়তে হয়।
নীলফামারী মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন,এই কলেজেটি সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছে।তবে বর্তমানে যতটুকু অবকাঠামো রয়েছে ক্রমবর্তমান শিক্ষার্থীদের তুলনায় তা অপ্রতুল হয়ে পড়েছে। একটি ভবন পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হওয়ার কারণে ক্লাস গুলো পরিচালনা করতে হিমসিম খেতে হয়।যদি একটি একাডেমিক ভবন করা হয় তাহলে কলেজের জন্য সুবিধা হবে।শিক্ষার্থীদের ছাত্রবাস হওয়া প্রয়োজন। কলেজ মাঠটি নিচু হওয়ায় জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।তাই মাঠটি সংস্কার করা জরুরী। ২০১৫ সাল থেকে বাংলা, ইতিহাস, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,সমাজবিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা বিভাগ এই ৬টি বিভাগে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। শিক্ষাথীদের ৫০টি করে আসন রয়েছে। প্রতিটি বিভাগে আসন বৃদ্ধি করা জরুরী।সরকারী সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ঠ যারা আছে তাদের সহযোগিতা কামনা করছি।