ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার জট এখনো কাটেনি। কোন দল কতটি আসন নিয়ে নির্বাচন করবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মূলত জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের আসন বিন্যাসের মতবিরোধে আটকে আছে সমঝোতা। দুই দলই আসন ছাড়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কেউ কাউকে ছাড়ছে না। তবে বাকি দলগুলোর আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে জোটের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন। জোট সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য দলের সঙ্গে সমঝোতা হলেও ইসলামী আন্দোলন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে জামায়াতের আসন বণ্টনের সুরাহা হয়নি। এনসিপির সঙ্গে ৩০ এবং বাংলাদেশ খেলাফতের সঙ্গে ১৩ আসন ছাড়ের আলোচনা অনেকটা চূড়ান্ত। এ ছাড়া খেলাফত মজলিস এবং এলডিপিকে ছয়টি করে, এবি পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনকে তিনটি করে, নেজামে ইসলাম, জাগপা ও বিডিপিকে দুটি করে মোট ৬৭টি আসন প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে জোটের সমঝোতা বৈঠকে। তবে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মতবিরোধে চূড়ান্ত ঘোষণা আটকে রয়েছে। জামায়াত দলটিকে ৪০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। ইসলামী আন্দোলন ৭০ আসনের কমে রাজি নয়।
ইসলামী আন্দোলনের এক সিনিয়র নেতা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ১৯০টি আসন রাখতে চাইছে। বাকি ১১০টি শরিকদের দিতে চাইছে। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি দিতে চায়। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন ৭০টির বেশি আসনে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ ৭০টিতে আমরা জয় পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সমঝোতায় জামায়াত এই আসনগুলো ছাড়ছে না। একই সঙ্গে জামায়াত কোনো আলোচনা ছাড়াই এনসিপিকে ৩০টি আসন দিয়েছে। এসব আসনে আমাদের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা কিছুটা অসন্তুষ্ট। তবে আমরা আশাবাদী জামায়াত আমাদের আরও কিছু আসন ছেড়ে সমঝোতায় আসবে। তবে বাংলাদেশ খেলাফতের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, সমঝোতা আটকে আছে শুধু আসন বিন্যাসে। কেউ কাউকে ছাড়ছে না। সবাই চায় বেশি আসন। বিশেষ করে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন আসন নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ বলেন, সমঝোতার একটা বৈঠকে কিছুটা অগ্রগতি হলেও পরের বৈঠকে আবার থমকে যায়। আশা করি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সমঝোতা হয়ে যাবে।
সর্বশেষ গত বুধবার পর্যন্ত কয়েক দফায় জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলনের বৈঠক হলেও আসন বণ্টনের সুরাহা হয়নি। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার সময় নির্ধারিত থাকলেও বৈঠক হয়নি। দুই দলের সূত্র জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের পূর্বনির্ধারিত মাহফিল থাকায় বৈঠক হয়নি। যদিও ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেছেন, আসন সমঝোতার আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। আমরা খুব কাছাকাছি চলে গেছি। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে। এদিকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আসন সমঝোতা না হলেও এনসিপিসহ আট দলের আসন প্রায় চূড়ান্ত। দলগুলো সমঝোতায় যেসব আসন পেয়েছে তাতে তারা সন্তুষ্ট। এসব দল এরই মধ্যে আসনভিত্তিক মাঠে কাজ করছে। এর মধ্যে এনসিপি, এবি পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থীরা রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জাতীয় স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচন করার জন্য জোট করেছি। এনসিপি সমঝোতার যে আসনগুলো পেয়েছে সে আসনগুলোতে জয়ী হওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি শরিক দলের আসনগুলো জিতিয়ে আনার জন্য এনসিপির নেতা-কর্মীরা ইতোমধ্যে সারা দেশে কাজ শুরু করেছেন।