‘বিদ্যুৎ আর স্বাধীনতা এক জিনিস। এই স্বাধীনতাকে আমরা কিছু লোকের হাতে দিয়ে দিয়েছিলাম। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দেশবিরোধী চুক্তিগুলো রিভিউ করে সমাধান বের করতে হবে। তবে আদানির বিদ্যুৎ ইস্যুতে যুদ্ধ করা যাবে না।’ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পুরোটাই চ্যালেঞ্জের। আর্থিক সংকট, অনিয়ম, দুর্নীতি সব মিলিয়ে এ খাতে বিরাট চ্যালেঞ্জ। বিদ্যুৎ আর স্বাধীনতা এক জিনিস। এই স্বাধীনতাকে আমরা কিছু লোকের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। আর এই স্বাধীনতাকে আমি দেশের মানুষের কাছে এনে দিতে চাই। এটিই আমার কাজ করার থিম। আমি এভাবেই কাজ করতে চাই।’


তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাদের মূল ফোকাস হচ্ছে রমজান মাস, গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা। আমরা এ লক্ষ্যে এখন পরিকল্পনা তৈরি করছি।


শিগগিরই তা জানানো হবে। আর জ্বালানির মধ্যে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে গুরুত্ব দেব। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমি বেসরকারি খাতের মানুষ এবং “হ্যান্ডসাম” ব্যবস্থাপনা পছন্দ করি। এ কারণে দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পা দেওয়া হয়েছে।’


ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের এত বছরে ভর্তুকি কমানোর বিষয়ে কোনো হইচই হলো না। আমরা মাত্র ছয় দিনের সরকার, এখনই এ বিষয়ে কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি! আমরা চেষ্টা করব যেসব জায়গায় লুজ আছে, সেখানে টাইট দিয়ে সাশ্রয় করা। সেখান থেকেই পরবর্তীতে আমরা অর্থ জোগানের চেষ্টা করব।’


জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘সংকট কাটাতে আমি চিন্তা করেছি এলপিজি, এলএনজি এগুলো সরকারই সরাসরি আমদানি করবে এবং সরকার তা এ খাতের অপারেটরদের দেবে, যারা পরে তা বাজারজাত করবে।’


দেশিবিদেশি কোম্পানিগুলোর পাওনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিশাল পরিমাণ দেনায় ডুবে আছে। বিদ্যুৎ কোম্পানির এ বিশাল অঙ্কের পাওনা তো আর এক দিনে তৈরি হয়নি। হাসিনার আমলে এতগুলো বছর তারা কী করেছে বলেন। বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর পাওনা মেটাতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দেশের যে বাজেট আছে তা মাথায় রেখেই আমাদের একটি পথ বের করতে হবে।’ বিতর্কিত আদানির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি প্রসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘আদানির ওপর কাজ চলছে। এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত এলে জানাব। এ চুক্তি ছিল দেশবিরোধী। এ চুক্তিগুলো রিভিউ করে আমাদের একটা সমাধান বের করতে হবে। তবে এ বিষয়ে এত আগে মন্তব্য করা ঠিক না। আমরা আলোচনা করছি। এরই মধ্যে একটি কমিটির রিভিউ পাওয়া গেছে। এগুলো প্রস্তুত হলে এ নিয়ে কাজ করব। আমি বিশ্বাস করি আদানি ইস্যুতে আলোচনার মাধ্যমে সব সমাধান করা যাবে। কেউ যদি এ ক্ষেত্রে আলোচনার আগেই কোথাও চলে যায়, সেটা তার ব্যাপার। এ ইস্যুতে তো যুদ্ধ করা যাবে না।’