রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নার্সিং কলেজে ৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কোনো নিয়মকানুন না মেনে। এই ৭১ জনের মধ্যে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এজন্য প্রকাশ করা হয়নি কোনো বিজ্ঞপ্তি। অনিয়ম ঢাকতে নিয়োগ দেখানো হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে। যদিও সে সময়ে দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান জানিয়েছেন, এমন কোনো নিয়োগ তার সময়ে হয়নি।
বিষয়টি তদন্তে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুর রহমানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করেন সাবেক বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্রশাসক খন্দকার আজিম আহমেদ। সম্প্রতি সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে সেই তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছেন তিনি। তদন্ত রিপোর্টে নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. হাবিবুর রহমান জানান, তদন্ত রিপোর্ট তিনি জমা দিয়েছেন। নিয়োগে যেসব অনিয়ম পেয়েছেন, সেগুলো তুলে ধরেছেন। তবে এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের সাধারণ সভায় তদন্ত রিপোর্টটি তুলে ধরেন প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ। এ নিয়ে সাধারণ সভায় আলোচনা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চান না। তবে নিয়োগে যে অনিয়ম হয়েছে, সেটি বোঝা যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহী সিটি নার্সিং কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন অপসারিত মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন। সিটি করপোরেশনের পরিচালনায় নার্সিং কলেজে সে সময় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পান রাজশাহী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান। আগস্টে সরকার পতন হলে তিনিও আর দায়িত্ব ফিরে পাননি। তিনি জানান, তার সময় পদ্ধতিগত কোনো নিয়োগ হয়নি। তিনিও শুনেছেন ৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর হাবিবুর রহমান নামের আরেকজনকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন তৎকালীন প্রশাসক খন্দকার আজিম আহমেদ। মূলত তার সময়ে এই ৭১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম শরীফ উদ্দিন, সদ্য সাবেক গবেষণা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান কোনো নিয়ম না মেনে বিভিন্ন পদে ৭১ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এই নিয়োগ দিতে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম শরীফ উদ্দিনের ছেলে ও ছেলের স্ত্রী। এ ছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তার স্বজন।
তদন্ত কমিটির সদস্য ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফরহাদ উদ্দীন জানান, ৭১ জনকে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে তাতে নিয়ম মানা হয়নি। ফাইলে আগের মেয়রের সময়ে একটি বিজ্ঞপ্তি পাওয়া গেছে, যেটি গণমাধ্যমে দেওয়া হয়নি। যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তারা কীভাবে পেলেন সেটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আগের বিভাগীয় কমিশনার ও প্রশাসক খন্দকার আজিম আহমেদ তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। সেই থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ১১ মাস ধরে বেতন বন্ধ। তদন্ত রিপোর্ট জমা হয়েছে। এখন বর্তমান কমিশনার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।