চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আরমান উদ্দিন, তার ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা হয়েছে।
রবিবার চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন মামলাটি করেন। বাদীও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় আরমান উদ্দিনের ভাই আরিফ উদ্দিন (৩৭), শওকত আলী (৪২), আদিল (৩২), আনোয়ার (২৮) ও জয়নাল আবেদীন (৩৩)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নিকটস্থ সার্কেল অফিসারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামলাটি তদন্ত করবেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে চারতলা একটি ভবন রয়েছে। ভবনের নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফ উদ্দিন বাদীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে ভবন ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল রাত দুইটার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে আবারও চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ঘর দখলের হুমকি দেওয়া হয়। পরে ওই রাতেই আসামিরা আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যান।
বাদীর দাবি, দোকান থেকে ১৭টি স্টিলের আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা মূল্যের মালামাল নেওয়া হয়। এ ছাড়া দোকানের ক্যাশ টেবিলে থাকা নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় বাদী বিদেশে ছিলেন। দেশে ফিরে তিনি বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা বাদীর ভবনে বসেন। সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেবেন না বলে জানান।
বাদীর অভিযোগ, আরমান উদ্দিন ফোনে তাকে বলেন, তাদের এলাকায় বসবাস করতে হলে তাঁদের কথামতো চলতে হবে। এ সময় আদিল চাঁদা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান।
বাদীর দাবি, ঘটনার পর তিনি লোহাগাড়া থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলেও যায়। তবে মামলা গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতে মামলা করেন।