বহুলপ্রতীক্ষিত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনবিশিষ্ট, প্রতিটি ৩ দশমিক ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের যোগাযোগে ভোগান্তি লাঘব হবে।


গতকাল বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপরে ধউর-আশুলিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে ফিতা কেটে সেতু খুলে দেওয়া উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি 


খুবই দরকারি একটি প্রকল্প। ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের দেশের যোগাযোগ একেবারে যানজটহীনভাবে নিশ্চিত করবে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যতগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে চলেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ছিল এটি। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে গিয়েছিল, বাস্তবায়ন অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পটির গুরুত্ব ও প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আবার সেই স্থবির অবস্থা থেকে কার্যকর করার জন্য যেসব বরাদ্দ ও উদ্যোগ নেওয়া দরকার, এই সরকার তা নিয়েছে।


প্রকল্পের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের কাজ শেষ উল্লেখ করে মন্ত্রী জানিয়েছেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে একমাত্র প্রকল্প, যেখানে এত বড় একটি প্রকল্পের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের কাছাকাছি কাজ শেষ হয়েছে। সাড়ে তিন বছর আমরা এই প্রকল্পের এক্সটেনশন করেছি। আমরা এই প্রকল্পে মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে গত ছয় মাসে যে কাজ হওয়ার টার্গেট ছিল, তার চেয়ে অধিক কাজ সম্পন্ন করেছি। ডিসেম্বরের মধ্যে আরও একটি অংশের কাজ শেষ হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সভাপতি চি উয়ে এবং প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলামসহ অনেকেই  উপস্থিত ছিলেন।


প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের প্রধান ভৌত উপাদানের মধ্যে রয়েছে ২৪ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ১০ দশমিক ৮৩৪ কিলোমিটার র?্যাম্প, ১৬ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার অ্যাট-গ্রেড সড়ক, ৪ দশমিক  শূন্য ৫ কিলোমিটার বাইপাইল ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ এবং মোট ৭ দশমিক ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি সেতু।