ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। এসব দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে দলীয় ২ হাজার ৯০ ও স্বতন্ত্র ৪৮৭। আর একজন রয়েছেন অনিবন্ধিত দলের। এসব প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির ৩৩১, জামায়াতের ২৭৬, ইসলামী আন্দোলনের ২৬৮, জাতীয় পার্টির ২২৪, এনসিপির ৪৪, গণঅধিকার পরিষদের ১০৪, খেলাফত মজলিসের ৬৮, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ৬৫, এবি পার্টির ৫৩, জনতার দলের ২৩ জনসহ ৫১টি দলের প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। গতকাল নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তবে মনোনয়নপত্র দাখিলের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোন দল কত প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কতজন, তা জানাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯টি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া নিবন্ধন বাতিল হয়েছে পিডিপি, ফ্রিডম পার্টি ও ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের।

তফসিল অনুযায়ী, গতকাল ৩০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু হয়েছে। চলবে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর বাছাইতে বাদ পড়া কোনো সংক্ষুব্ধ প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে আপিল নিষ্পত্তি হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। এরপর ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

পোস্টাল ভোটের নিবন্ধনের সময়সীমা ৫ জানুয়ারি : চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) পোস্টাল ভোটের জন্য ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা আরও একবার বাড়িয়ে আগামী ৫ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে। গতকাল বিকালে নির্বাচন কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এর আগেও ভোটারদের নিবন্ধনের সুযোগ সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল।

ইসির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন ১০ লাখ ৫২ হাজার ভোটার। এর আগে গতকাল ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আমাদের ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। এটা বাড়িয়ে আগামী জানুয়ারির ৫ তারিখ করা হয়েছে। প্রবাসী ও সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ আছে যে তারা এখনো নিবন্ধন করতে পারেনি।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীসহ নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারাসহ নিজ ভোটার এলাকার বাইরে অবস্থানরত সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররা অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়ে পোস্টাল ভোট দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।