আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তফসিল ঘোষণার আগেই অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তবে কে কবে পদত্যাগ করবেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ছাত্র উপদেষ্টাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, নির্বাচনে অংশ নিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন এই দুই উপদেষ্টা। তারই অংশ হিসেবে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন তাঁরা। আগামী ৪ কিংবা ৫ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে পারেন মাহফুজ আলম। তাঁর পদত্যাগের দুই দিন আগে কিংবা পরে আসিফ মাহমুদ পদত্যাগ করতে পারেন।

গত ৯ নভেম্বর নিজ বাড়ি কুমিল্লার বদলে ঢাকা-১০ আসনে ভোটার হন আসিফ মাহমুদ। এ সময় তিনি ঢাকা থেকে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু ঢাকা থেকে নির্বাচন করব এটা মোটামুটি নিশ্চিত, সেই জায়গা থেকে নিজের ভোটটাও ঢাকায় নিয়ে আসা। কারণ ভোটটা যাতে অপচয় না হয়। আমি ভোটার হওয়ার পর দুটি নির্বাচন হয়েছে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে। সে সময় কেউই ভোট দিতে পারেনি। নির্বাচনে যাতে ভোট দিতে পারি, সেটা নিশ্চিত করলাম। নির্বাচন কোথা থেকে করব, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঢাকা থেকে করব, ইনশাআল্লাহ।’

গত বৃহস্পতিবারও এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।পদত্যাগ করেই নির্বাচন করব।’

অন্যদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম জানান, ‘দুই মাস ধরে আমি অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি, আমি কবে পদ ছাড়ব, তা এখনো জানি না।’

আসিফ যেতে পারেন বিএনপি কিংবা গণঅধিকারে:

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পদত্যাগের পর কোন দলে যুক্ত হবেন তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে গত ৯ নভেম্বর এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পরিকল্পনা স্বতন্ত্র নির্বাচন করার। তারপর দেখা যাক।’

এর আগে এক বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ‘এনসিপিতে যোগ দেব, এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।’ এনসিপির সঙ্গে আসিফ মাহমুদের এক ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে বলেও দলটির সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আর এই বিরোধের ফলেই তাঁর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কিংবা গণঅধিকার পরিষদে যোগদানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে

এই উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ একাধিকজন জানান, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ মিলে তরুণদের একটি বৃহত্তর ঐক্য তৈরি হোক সেই চেষ্টা করেছিলেন আসিফ মাহমুদ। তবে এনসিপি নেতাদের সহযোগিতা না পাওয়ায় সেই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। পরে এনসিপির সহযোগী ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির আত্মপ্রকাশের সময় তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাইনাস করার অভিযোগ ওঠে। এর পর থেকে আসিফ মাহমুদ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের এনসিপি নেতাদের এড়িয়ে চলতে দেখা গেছে।

এদিকে বিএনপি কিংবা গণঅধিকারসহ একাধিক দলের সঙ্গে সম্প্রতি আসিফ মাহমুদ আলোচনার টেবিলে বসেছেন বলে জানা গেছে। পদত্যাগের পরে এর যেকোনো একটিতে তিনি যুক্ত হতে পারেন।

অন্যদিকে ধানমণ্ডি, নিউ মার্কেট, কলাবাগান ও হাজারীবাগ থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১০ আসনে বিএনপি এখনো কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। গুঞ্জন রয়েছে, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার মাধ্যমে সরকার থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা-১০ আসনে নির্বাচন করবেন আসিফ মাহমুদ। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ রকম কোনো আলোচনা হয়নি। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে এ রকম কিছু জানি না।’

আর গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, ‘আলোচনা তো থাকা স্বাভাবিক, যেহেতু আসিফ আমাদের রাজপথের সহযোদ্ধা এবং একসঙ্গে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। তো আলোচনা আছে, আমরা তাঁকে সাধুবাদ জানাই। তিনি যদি আসতে চান, আমরা তাঁকে অবশ্যই মূল্যায়ন করব।’

মাহফুজ থাকবেন এনসিপিতে:

আরেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম পদত্যাগের পর জাতীয় নাগরিক পার্টিতেই (এনসিপি) যাচ্ছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজন নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা বলেছেন, এনসিপি থেকেই তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। শাপলাকলি প্রতীক নিয়েই লক্ষ্মীপুর-১ আসনে নির্বাচন করতে পারেন মাহফুজ আলম। তবে দলে যোগ দিয়ে তিনি কোন পদে থাকবেন তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দলটির বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, পদত্যাগের পর এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ পদেই থাকবেন মাহফুজ আলম। এমনকি এনসিপির উপদেষ্টা হিসেবেও যোগদান করতে পারেন তিনি।