আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল লিটন দাসকে অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়। এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে। তবে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কা দেখছে বিসিবি। তাই ভারতে খেলতে যাবে না বাংলাদেশ দল। লিটনদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আইসিসিকে চিঠি লিখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ভারতের ন্যক্কারজনক আচরণে সরকারের কঠোর অবস্থানের পর এমন সিদ্ধান নেয় বিসিবি। কেননা, অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা ও ক্রীড়াঙ্গনের কর্তাব্যক্তিরা মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ইস্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও বাংলাদেশকে অবমাননা মেনে নেব না। গোলামির দিন শেষ। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার কথা জানান। এমনকি বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করার বিষয়েও কথা বলেন তারা।
শনিবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই কর্তৃক মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার জন্য নির্র্দেশ পাঠানো হয় কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কিছু উগ্রবাদী সংগঠনের হুমকির জেরে এ সিদ্ধান নেয় বিসিসিআই। কলকাতায় মুস্তাফিজকে নেওয়ার ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিক বলিউড তারকা শাহরুখ খানকে দেশদ্রোহী, গাদ্দার বলে সম্বোধন করে বিজেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা। এমনকি কলকাতার মাঠে যাতে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার খেলতে না পারে সেটার জন্য হুমকিও দেয় তারা। পরে বাংলাদেশি তারকাকে বাদ দেওয়ায় উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা বলেন, এটা ভারতীয়দের জয়। এ অবস্থায় ভারতের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া কতটা নিরাপদ হবে সেটা নিয়েও চারদিকে প্রশ্ন উঠছে। ইতোমধ্যে ভারতের সাবেক তারকারা এর সমালোচনা করেছেন।
এদিকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর ফুঁসে উঠেছে বাংলাদেশ। ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন দেশের ক্রিকেটভক্তরা। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা। এমনকি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নিন্দা ও প্রতিবাদ করে সমাজমাধ্যমে জানান, মুস্তাফিজ যেখানে চুক্তি করেও খেলতে পারে না, সেখানে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ নয়। এজন্য বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নিতে বিসিবিকে আইসিসিতে চিঠি দেওয়ার নির্দেশ দেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা। আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি তথ্য এবং সম্প্রচার মন্ত্রীকে (উপদেষ্টা) অনুরোধ করেছি বাংলাদেশে আইপিএল খেলার সম্প্রচারও যেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমরা কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও বাংলাদেশকে অবমাননা মেনে নেব না। গোলামির দিন শেষ!’
এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফারুকী সমাজমাধ্যমে জানান, এটা ন্যক্কারজনক। এখানে বাংলাদেশের নাগরিকরা ঘৃণার রাজনীতি দেখতে পেয়েছেন এবং ব্যথিত হয়েছেন। আপনারা জানেন গত কিছুদিন ধরে ভারতে সংখ্যালঘু মানুষের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে। এ ঘটনাও একই মোটিভ দ্বারা প্রভাবিত কি না সেটা নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট মহল খতিয়ে দেখবে। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, খেলাটাকে খেলার জায়গায় রাখতে পারলেই ভালো হতো। তবে দেশে আইপিএল সম্প্রচার ইস্যুটির আইনগত দিকগুলো খতিয়ে দেখতে হবে।
এমন ঘটনার পর মোস্তাফিজের পাশে পুরো জাতি আছে, এমনটাই মত বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের। জাতীয়তার কারণে মুস্তাফিজ লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন জানিয়ে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘মুস্তাফিজ একজন বিশ্বমানের অ্যাথলেট যিনি নিজের দক্ষতা ও পারফরম্যান্স দিয়ে সেখানে জায়গা করে নিয়েছিলেন। শুধু তার জাতীয়তার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা একজন খেলোয়াড়ের প্রতি অবিচার এবং অসহিষ্ণুতার চরম বহিঃপ্রকাশ, যা ক্রিকেটের মতো জেন্টলম্যানস গেমে মোটেও কাম্য নয়।’ মুস্তাফিজের প্রতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘শক্ত থাকো মুস্তাফিজ। পুরো জাতি আজ তোমার পাশে আছে।