মিরপুর স্টেডিয়ামের মূল ফটকে পরিচিত, অপরিচিত সবাইকে নিরাপত্তা সদস্যরা আটকে দিচ্ছেন। প্রশ্নের উত্তর শুনে সন্তুষ্ট হলে ছেড়ে দিচ্ছেন। গতকাল দুপুরে মিরপুর স্টেডিয়ামে ঢুকে বেশ কিছু নতুন লোকের দেখা মিলেছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনোরকমের বিজ্ঞপ্তি ছাড়া যাদের চাকরি দিয়েছে ক্রিকেট বোর্ড। নিয়োগপ্রাপ্তের সংখ্যা কোনোভাবেই ২৫-২৬ জনের কম নয়। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর বিসিবিতে এখন থমথমে পরিবেশ। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি। নতুন সরকার আসায় বিসিবির কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই চুপচাপ। অপরিচিত জনের সঙ্গে কেউ কথা বলছেন না। এমন পরিস্থিতির দেখা মিলেছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতনের পর। গণ অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চাপের মুখে নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বোর্ড পরিচালকদের অনেকেই পদত্যাগ করেছিলেন। অনুপস্থিতির জন্য অনেকেই পরিচালনা পর্ষদের সদস্য পদ হারান। গত দেড় বছরে বিসিবি দুটি পরিচালনা পর্ষদ পেয়েছে। দুজন নতুন সভাপতি পেয়েছে। বিসিবির বর্তমান কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার। নতুন সরকারের সময় কি এই বোর্ড কার্যক্রম চালাবে? না, নতুন কিছু হবে বিসিবিতে? বিসিবি বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদিন ফাহিম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা এখনো আছি এবং কাজ করে যাচ্ছি।’ বিসিবির আরেক পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম কিছুদিন আগে মিডিয়ার মুখোমুখিতে বলেন, ‘আমাদের পদত্যাগের কোনো কারণ নেই। বর্তমান বোর্ড নির্বাচিত কমিটি।’ পরিচালকরা যাই বলুন না কেন, সবাই একটি অস্থিরতার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। তারা বুঝতে পারছেন না, বিসিবির বর্তমান কমিটির ভবিষ্যৎ কী?
বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ থাকবে কি না, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্পষ্ট হবে। পরিস্থিতি যখন থমথমে, তখন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল পরিচালকের অনেককেই না জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন গেছেন। জানা গেছে, তিনি পারিবারিক কারণে মেলবোর্ন গেছেন। ঢাকায় ফিরবেন থাইল্যান্ডে নারী এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখে। বিসিবি সভাপতির ঢাকা ত্যাগে পুনরায় আলোচনায় উঠে আসে বিসিবির ভবিষ্যৎ। পরিচালকদের অনেকেই জানেন না, বিসিবির ভবিষ্যৎ কী? তারা কি নির্ধারিত সময় পার করতে পারবেন? আজ নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গঠন হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে ক্রীড়াঙ্গন একজন নতুন অভিভাবক পেতে যাচ্ছে। ক্রীড়ামন্ত্রী যিনিই হোন না কেন, এখন থেকে বিসিবির বর্তমান কমিটি থাকবে, বা থাকবে না, এ নিয়ে আলোচনা আরও বাড়বে।
পরিস্থিতি যখন থমথমে, তখন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল পরিচালকের অনেককেই না জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন গেছেন। জানা গেছে, তিনি পারিবারিক কারণে মেলবোর্ন গেছেন
বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের অনেকেই তাদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচিত হয়েছেন। বিসিবির বর্তমান কমিটি মেয়াদকাল পার করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে সাবেক পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি ব্যাংকক থেকে ফোনে বলেন, ‘অনিয়মের যদি হিসাব করা হয়, তাহলে ধরতে হবে ২০২৪ সাল থেকে। তখনো নির্বাচিত বোর্ড ছিল। তখনকার সরকার বোর্ড সদস্যদের ভয়, ভীতি, শক্তি প্রয়োগ ও ম্যানিপুলেশন করে বোর্ডকে ভেঙে দেওয়া ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে আরেকটি বোর্ড গঠন করা হয়, যেটা অনিয়মের মধ্যে দিয়ে গঠিত হয়। সেই বোর্ডের সভাপতি করা হয় ফারুক আহমেদকে। ফারুকের বোর্ডকে বাতিল করে একই প্রক্রিয়ায় নতুন আরেকটি বোর্ড করা হয়। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে সেই বোর্ড একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে। যে নির্বাচন হয়েছিল একেবারেই অনিয়ম এবং বেআইনি কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে। এসব সবই হয়, তৎকালীন সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপে। এখন যদি অনিয়ম দূর করার অভিপ্রায় থাকে, সেই হিসাবটা ২৪ সালের অনিয়ম থেকে ধরতে হবে। এবং এরকম হস্তক্ষেপ কখনোই কাম্য নয়। এগুলো আইসিসি, ফিফা বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নীতি বিরুদ্ধে। এখন দেখতে হবে নতুন সরকার, যেটা গঠিত হতে যাচ্ছে, তারা কী অনিয়মকেই বৈধতা দেবে?’
বিসিবির বর্তমান কমিটি যে নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছে, সেই নির্বাচনে ৭৬ ক্লাবের অধিকাংশই বয়কট করেছিল। ফলে নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এ ছাড়া বর্তমান কমিটির সময়কালীন প্রথমবারের বিশ্বকাপ খেলছে না টি-২০ বিশ্বকাপ। এমন সব কার্যক্রমে বিসিবির বর্তমান কমিটির কার্যক্রম পুরোটাই প্রশ্নবিদ্ধ।