দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের মেয়েদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লড়াই শুরু হয় ২০১৬ সালে। সে বছর ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম ফাইনাল। শিলিগুড়িতে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে ভারতের কাছে হারলেও দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের শক্তিমত্তা জানিয়ে দিয়েছিলেন সাবিনা খাতুন-সিরাত জাহানরা। এরপরের কয়েক বছর বাংলাদেশ এ অঞ্চলে মেয়েদের বয়সভিত্তিক দলগুলোর লড়াইয়ে নিজেদের আধিপত্য প্রমাণ করে। ২০১৭ সালে জয় করে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। পরের বছর অনূর্ধ্ব-১৮ লেভেলেও চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশের মেয়েরা। বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা বাংলাদেশ ২০২২ সালে ইতিহাস গড়ে। সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে সিনিয়র দলের লড়াইয়েও চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। দুই বছর পর ২০২৪ সালে ফের সাফে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বাংলাদেশের মেয়েরা। এবারও সাবিনা খাতুন নেতৃত্ব দেন দলকে। বাংলাদেশের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের সুযোগ। আজ গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। জিতলেই দারুণ এক ইতিহাস গড়বেন মারিয়া মান্ডারা।
বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত অস্ট্রেলিয়াপ্রায় প্রতিটা সাফেই বাংলাদেশ-ভারত লড়াই দেখার সুযোগ পান সমর্থকরা। এবারও বাংলাদেশ-ভারত মুখোমুখি হয়েছে। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্বাগতিক মেয়েরা। এমন এক পরাজয়ের পরও সেমিফাইনালে দারুণ এক জয় পেয়েছেন মারিয়া মান্ডারা। শক্তিশালী নেপালের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সেমিফাইনালে ভারত ভুটানকে হারিয়েছে ১-০ গোলে। ফাইনালে কী অপেক্ষা করছে? জাতীয় দলের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ-ভারতের মেয়েরা একবারই ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে, ২০১৬ সালে। সেবার ৩-১ গোলে জয় পেয়েছে ভারত। এরপর বেশ কয়েকবারই ভারতকে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ উপহার দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে ফাইনালে ২০১৬ সালের পর এবারই প্রথম দেখা হচ্ছে দুই দলের। মারিয়া মান্ডারা কি প্রতিশোধ নিতে পারবেন? ২০১৬ সালের ফাইনালেও ছিলেন মারিয়া মান্ডা। দীর্ঘ ১০ বছর পর দলের দায়িত্ব তার কাঁধে। অধিনায়ক তিনি। বাংলাদেশের মাঝ মাঠের অন্যতম স্তম্ভও। ভারতের বিপক্ষে ২০১৬ সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার দারুণ সুযোগ মারিয়ার সামনে। বাংলাদেশের সামনেও।
ফাইনাল নিশ্চিত করার পর প্রধান কোচ পিটার বাটলার বলেছেন, ফাইনালে দল কেমন খেলছে তা বড় কথা নয়, জয় নিশ্চিত করাই বড় কথা। দৃঢ় সংকল্প নিয়ে খেললেই কেবল ফলাফল নিজেদের পক্ষে আনা যায় বলেও মন্তব্য করেছেন বাটলার। আজ বাংলাদেশ কতটা দৃঢ় থাকতে পারবে লড়াইয়ে? দক্ষিণ এশিয়ায় মেয়েদের ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই শুরু হয় ২০১০ সালে। প্রথমবার বাংলাদেশের মাটিতে এ টুর্নামেন্ট জয় করে ভারত। সেবার ফাইনালে নেপালকে হারায় তারা। এরপরের দুবারও নেপালকে হারিয়ে হ্যাটট্রিক শিরোপা নিশ্চিত করে ভারতের মেয়েরা। ২০১৬ সালে বাংলাদেশকে এবং ২০১৯ সালে নেপালকে হারিয়ে টানা পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। ভারতের এই রেকর্ড স্পর্শ করা সময়ের ব্যাপার। তবে বাংলাদেশের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা নিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ অপেক্ষা করছে। এ সুযোগ মারিয়া মান্ডারা কতটা কাজে লাগাতে পারবেন, তা বলা কঠিন। বাংলাদেশ ফুটবলে নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচনের যে ধারা বজায় রেখেছে, তা মেয়েদের হাত ধরেই। গত দশকে ছেলেদের ফুটবল যখন কাক্সিক্ষত সাফল্য খুঁজে ফিরছিল, তখন নারী ফুটবলাররাই দেশের ফুটবলে সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছিলেন। আরও একবার কি তারা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মুখে হাসি ফোঁটাতে পারবেন?
গতকাল ফাইনালপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া মান্ডা দৃঢ়তার সঙ্গে জয়ের কথাই বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা নিজেদের ফোকাসটা ঠিক রাখতে পারলেই কাক্সিক্ষত ফল পাব।’ বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী আজ এই আশাতেই থাকবেন। মারিয়া মান্ডারা যেন নিজেদের ফোকাসটা ধরে রাখতে পারেন।