দুর্নীতির অভিযোগে নয়, বনাবনি হয়নি বলে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নির্দেশে বিসিবির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ফারুক আহমেদকে। সাবেক অধিনায়ক বিসিবির সভাপতি হয়েছিলেন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পট-পরিবর্তনে নাজমুল হাসান পাপনের সরে দাঁড়ানোয়। ফারুকের বিদায়ের পর বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নেন আরেক সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরিম্যান বুলবুল দায়িত্ব নিয়ে মিডিয়াকে জানিয়েছিলেন, একটি দ্রুত টি-২০ ইনিংস খেলতে চান। তখন সবাই ভেবেছিলেন তিনি হয়তো কথা রাখবেন। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিসিবির নির্বাচনে অংশ নিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। অথচ নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি বা ক্যাটাগরি-২-এর ৭৬ ক্লাবের ৪০টি অংশ নেয়নি। নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলো ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটকেও বর্জন করেছে। ২০২৫ সাল শেষ পর্যায়ে। ৬ দলের বিপিএল দিয়ে ২০২৫ সাল শেষ হবে। ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাবে টি-২০ ক্রিকেটই। চলতি বছর দেশের ক্রিকেটে বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত মাইলফলক রয়েছে। তার পরও সব পারফরম্যান্সকে আড়াল করে ক্রিকেটাঙ্গনের মূল আলো কেড়ে নিয়েছে বিসিবি নির্বাচন।
২০২৫ সালে একেবারে খারাপ কাটেনি দেশের ক্রিকেটের। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ জিতেছে। টি-২০ এশিয়া কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেছে। যদিও আসর দুটিতে সেমিফাইনাল খেলতে পারেনি। দলগত পারফরম্যান্সকে আড়াল করে দুই ব্যক্তিগত মাইলফলক বাংলাদেশের ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার বিরল মাইলফলক গড়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর স্টেডিয়ামে ১০০তম টেস্ট খেলেন মুশফিক। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ৫৩ রান করেন সাবেক অধিনায়ক। একই টেস্টে ২৫০ উইকেটের ক্লাবের বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে নাম লেখান বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ খেলেছে মাত্র ৩টি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে ২ টেস্ট ম্যাচ সিরিজ ড্র করে ১-১ ব্যবধানে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে ২ টেস্ট সিরিজ হারে ০-১ এবং ঘরের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জেতে ২-০ ব্যবধানে। সব মিলিয়ে ২০২৫ সালে ৬ টেস্ট খেলে জিতেছে ৩টি এবং হার ২টি। একটি ড্র হয়েছে গলে। গল টেস্টের উভয় ইনিংসে আবার সেঞ্চুরি করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১৪৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন অভিমানে। পরবর্তীতে বিসিবির সহসভাপতি ফারুকের অনুরোধে পুনরায় দায়িত্ব নেন। এ বছর বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান করেন নাজমুল শান্ত। ৬ টেস্টে ৩ সেঞ্চুরি ও এক হাফ সেঞ্চুরিতে রান করেন ৫৩২। মুশফিক ৬ টেস্টে ২ সেঞ্চুরি ও এক হাফ সেঞ্চুরিতে রান করেন ৫০৩। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুরে মুশফিক ১০৬ ও অপরাজিত ৫৩ রানের ইনিংস খেলেন। ১০০ টেস্টে মুশফিকের রান ১৩ সেঞ্চুরি ও ২৮ হাফসেঞ্চুরিতে ৬৫১০। এ বছর টেস্টে দেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি ৩৩ উইকেট নেন তাইজুল। মিরপুরে তাইজুল খেলতে নেমেছিলেন ৫৬ টেস্টে ২৪২ উইকেট নিয়ে। হাতছানি ছিল ২৫০ উইকেটের মাইফলক গড়ার। উভয় ৪টি করে ৮ উইকেট নিয়ে দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আড়াই শ ক্লাবে নাম লেখান। টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ১০৬ রানে। সর্বোচ্চ দলগত স্কোর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৫৮৭ ডি.।
মেহেদি হাসান মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ওয়ানডে খেলেছে ১১টি। জয় ৩ এবং হার ৭। ওয়ানডে সিরিজে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে। হেরেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১-২ এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে ০-৩ ব্যবধানে হেরেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৭৯ রানে। চলতি বছর ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রান তাওহিদ হৃদয়ের, ১১ ম্যাচে ৩৮৮ রান। আগামী বছরেন ফেব্রুয়ারি-মার্চে টি-২০ বিশ্বকাপ। তার প্রস্তুতি হিসেবে চলতি বছর লিটন দাসের নেতৃত্বে সবচেয়ে বেশি টি-২০ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ৩০ ম্যাচে জয় ১৫টি ও হার ১৪টি। সবচেয়ে বেশি রান করেন তানজিদ তামিম, ২৭ ম্যাচে বাঁ-হাতি ওপেনার ৮ হাফসেঞ্চুরিতে ৭৭৫ রান করেন। অধিনায়ক ২৫ ম্যাচে রান করে ৬৩৫ রান। পারভেজ হোসেন ইমন একটি সেঞ্চুরি করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন ২৫ ম্যাচে ৩৩টি।