ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। আর বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিরোধীদলীয় উপনেতা কে হবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরকে নিয়ে আলোচনা চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, দলীয় প্রধান হিসেবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সংসদীয় দলের নেতা হচ্ছেন এটি প্রায় নিশ্চিত। বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে তিনিই পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করবেন বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হতে পারেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে এটা জামায়াত এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এখনো আলোচনা চলমান। এখানে দুই থেকে তিনজনের নাম রয়েছে। তারা হলেন এনসিপির নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তবে এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এই দুজনের মধ্যে কেউ একজন হবে সংশ্লিষ্ট সূত্র এমনটাই নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়া সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ দৌড়ে এগিয়ে আছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তবে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল ও সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ আলোচনায় রয়েছেন। চট্টগ্রামের শাহজাহান চৌধুরী এবং সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামকে বিরোধী দলের হুইপ পদ দেওয়া হতে পারে। তবে শাহজাহান চৌধুরীর সম্ভাবনাই বেশি বলে জানা গেছে। বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার হবেন। এ দৌড়ে আলোচনায় আছেন দলের সাবেক আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ও মীর কাসেম আলির ছেলে আয়নাঘর থেকে ফেরত আসা ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। তবে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনা বেশি।
জানতে চাইলে জামায়াত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এ টি এম মাসুম বলেন, সংসদের এসব পদ নিয়ে দলের এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে যাচাইবাছাই কার্যক্রম চলছে। নির্বাচিতদের শপথ হলে পরে বিরোধী দলের নেতারা কে কোন পদে বসবেন সেটা চূড়ান্ত করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু জামায়াত জোট বদ্ধ। সুতারাং পদ নিয়ে যা হবে তা জোটবদ্ধই হবে। ১১ দলীয় জোট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে শরিকদের জন্যও ছাড় দিতে হবে। জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে দলগতভাবে ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। দলটির নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের শরিক এনসিপি ছয়টি, খেলাফত মজলিস তিনটি মিলিয়ে জোটগতভাবে তারা আসন পেয়েছে ৭৭টি। শতকরা হিসেবে দলটি ভোট পেয়েছে ২৭ শতাংশ। প্রাপ্ত আসন এবং ভোটের এই হিসেবে দলটি সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে আরও ১৩টি এবং সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষে ৩২টি আসন পেতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে মাত্র দুটি আসন পাওয়া দলটি এবার সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল হতে যাচ্ছে। জামায়াত ১৯৯১ সালে ১৭টি এবং ২০০১ সালে বিএনপির সঙ্গে চারদলীয় জোটে থেকে ১৮টি আসনে বিজয়ী হয়। এবারই প্রথম দলটি এতসংখ্যক আসনে বিজয় লাভ করে। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, কমপক্ষে ৫৩টি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা ২ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন।