ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে। অতীতে তিনি এই আসনে প্রার্থী হয়ে বিএনপির প্রার্থীর কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের রুকনিয়াত বা সদস্যপদ বাতিল করে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্দেশে এই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।
এর আগে, রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়ীয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ঘটনার বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জামায়াত নেতা অধ্যাপক জসিম উদ্দিনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তার অনুসারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই আসনে অধ্যাপক জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। অতীতে তিনি এই আসনে দলীয় প্রার্থী হয়ে বিএনপির প্রার্থীর কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এসব কারণে তিনি অসংখ্য মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন এবং একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের জনপ্রিয় এই নেতাকে অন্যায়ভাবে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তাই সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন।
বহিষ্কারাদেশের সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মোজাম্মেল হক আকন্দ বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল দল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে অদ্যাবধি ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে উঠে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছে। আগামীতেও দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন থাকবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল করিম বলেন, সাংগঠনিক নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংগঠনের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে তাকে (অধ্যাপক জসিম উদ্দিন) বহিষ্কার করা হয়েছে।