শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনায় সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ভারতের সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বিরোধীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে প্রস্তুত। তবে আলোচনার সময় বিরোধীদের কোনো ধরনের ‘হট্টগোল’ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 


গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজিজু বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেবেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়া হবে, তখন বিরোধীদের তা শুনতে হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রস্তাব খুবই স্পষ্ট-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত। আমার একমাত্র অনুরোধ, আলোচনা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব দেওয়ার সময় বিরোধীরা যেন এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি না করেন- যাতে বক্তব্য দেওয়া বাধাগ্রস্ত হয়। প্রসঙ্গত, সরকারের এ অবস্থান এমন সময় এলো, যখন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক কলামে শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তীব্র সমালোচনা করেন। ওই লেখায় রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো তদন্তের নির্দেশ দেননি এবং এ নিয়ে কোনো বিবৃতিও দেননি। তার দাবি, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদের দেওয়া প্রস্তাবও বারবার প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।


এবার আন্দোলনে উত্তাল রাঁচি : কলকাতা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানকে কেন্দ্র করে গতকাল তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে শিক্ষার্থীরা রাজ্য বিধানসভার দিকে এগোলে চরম বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আটকাতে জলকামান ছোড়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তাতেও তাদের আটকানো সম্ভব না হওয়ায় লাঠিপেটা করতে হয়। একসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন।


ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ (জেপিএসসি) এবং ‘ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন’ (জেএসএসসি) চাকরি নিয়োগ পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নানা অনিয়মের অভিযোগেই এদিন রাঁচিতে অবস্থিত ঝাড়খণ্ড বিধানসভা অভিযানের ডাক দেয় শিক্ষার্থীরা। এ মিছিলের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী যোগ দেয়। মূলত জেন-জির আধিপত্য ছিল এ অভিযানে। এদিন অনশনরত ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতোও বিধানসভা অভিযানের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেন। ১৬ দিন ধরে চলা এ আন্দোলনের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে এদিন সকাল থেকেই ট্রেন, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি করে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাঁচিতে জমা হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা করে পুলিশ। প্রধান সড়ক ও জেলা সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়, বন্ধ রাখা হয় শহরের অধিকাংশ স্কুল। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা বিধানসভার দিকে এগোতে থাকে। এ সময় আন্দোলনকারীদের মুখে জাতীয় সংগীতও শোনা যায়। আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান স্পষ্ট করে জানান, সিবিআই তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই থামবে না। এ দাবিতে এখনো ছয়জন আন্দোলনকারী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে চাপের মুখে সিআইডির সমন পেয়ে গত রবিবারই জেপিএসসির তিনজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এর আগে ২২ জুলাই কমিশনের চেয়ারম্যান এল খিয়াংতেও ইস্তফা দিয়েছিলেন।