ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটে দেখা দিয়েছে গভীর টানাপোড়েন। নির্বাচনি আসন বণ্টন নিয়ে জোটে থাকা কয়েকটি দলের মধ্যে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তুষ্টিতে রয়েছেকাক্সিক্ষত আসন না পাওয়ায় একক নির্বাচন করার কথাও জানিয়েছে দলটি। ইতোমধ্যে ২৭২ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টিসহ কয়েকটি দল আসন নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এই ছয়টি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা শুরু করে। পরে এতে যোগ দেয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। জামায়াতসহ এই আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে টানা অনেক দিন মাঠে ছিল। নতুন করে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি নির্বাচনি সমঝোতায় যুক্ত হওয়ায় এখানে দলের সঙ্গে সংখ্যা দাঁড়াল ১১টিতে।

কিন্তু গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী যে দলগুলোর সঙ্গে জামায়াত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিল, তাদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দেখা দিয়েছে অসন্তুষ্টি। নতুন করে তিনটি দল এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টির প্রবেশের পর আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধ অনেকটা প্রকাশ্যে আসে।

আসন বণ্টনসহ নানান ইস্যুতে প্রকাশ্যে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন। এরই মধ্যে সোমবার মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ২৭২ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ ছাড়া সমঝোতা ও নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দলটি। পরে গত মঙ্গলবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে ইসলামী আন্দোলন। ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা দেশে তারা ১৪৩ আসনকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রেখেছে। অর্থাৎ ১৪৩ আসনে নিজেদের অবস্থান ভালো দেখছে দলটি। এর মধ্যেও তারা জোটের কাছ থেকে ১০০ আসন আশা করে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে কম আসন প্রস্তাব করায় দলটির নেতারা অসন্তুষ্ট। এ ছাড়া যেসব এলাকায় চরমোনাই পীরের ভক্ত-অনুরাগী কিংবা সমর্থন বেশি সেসব আসনেও জামায়াত তাদের ছাড় দিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

দলটির নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘এক বাক্স’ নীতির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গঠনের জন্য ইসলামী আন্দোলন বড় ঝুঁকি নিয়েছিল। বহু আলেম ও সমর্থকের আপত্তি সত্ত্বেও বৃহত্তর স্বার্থে তারা সেই পথে এগিয়েছিল। কিন্তু জামায়াত সেই সুযোগ নষ্ট করছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ‘আমরা ২৭২ আসনে মনোনয়নফরম জমা দিয়েছি। একক নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে। তবে সমঝোতা হয়ে গেলে জোটভিত্তিক নির্বাচনে যাব। আমি মনে করি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় যাওয়া সম্ভব।’