বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচনি সমঝোতা হয়েছে। এই সমঝোতায় কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এলডিপি) যুক্ত হয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আট দল একসঙ্গে ছিল। আর দুটি দল তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। সেগুলো হলো এনসিপি ও কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন এলডিপি।

সংবাদ সম্মেলনে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ডা. আহমদ আবদুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, নেজামে ইসলাম পার্টি বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ, ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এলডিপিওগণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এই ছয়টি দল আসন সমঝোতার ভিত্তিতে সব আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার আলোচনা শুরু করে। পরে এতে যোগ দেয় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। জামায়াতসহ এই আটটি দল বিভিন্ন দাবিতে অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে টানা অনেক দিন মাঠে ছিল। নতুন করে এনসিপি ও এলডিপি নির্বাচনি সমঝোতায় যুক্ত হওয়ায় এখানে দলের সঙ্গে সংখ্যা দাঁড়াল ১০টিতে। জামায়াতের আমির বলেন, এনসিপির সঙ্গে এরই মধ্যে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সময়স্বল্পতার কারণে তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে না পারলেও দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরাসরি বৈঠকে অংশ নিয়ে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। শিগগিরই এনসিপি আলাদা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে।

তিনি বলেন, ৩০০ আসনেই নির্বাচনি সমঝোতা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং প্রায় সব আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত। শেষ পর্যায়ে যুক্ত হওয়া দুই দলের কারণে কিছু কারিগরি বিষয় রয়ে গেছে, যা মনোনয়ন দাখিলের পর পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ যে সংকটময় সময় পার করছে, সেই বাস্তবতা থেকে প্রিয় বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে শোষণ-বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়েই আটটি দল দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ আরও দুটি দল কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের নেতৃত্বাধীন এলডিপি এবং এনসিপি এই জোটে সম্পৃক্ত হয়েছে। নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ঘোষিত তারিখেই একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখনো সবার জন্য সমতল মাঠ তৈরি হয়নি। সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

আমরা জামায়াতের জোটে যাচ্ছি, থাকব ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে : বৃহত্তর ঐক্যের জায়গা থেকে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী জুলাইয়ের পর ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কাজ করতে আমরা জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ৮ দলের সঙ্গে নির্বাচনি জোট করেছি। তবে আসন সমঝোতায় এনসিপির জোটের বাইরে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিবেচনা করা হবে না।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা সবাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কাজ করব। জোটের বাইরে আমাদের আলাদা কোনো প্রার্থী থাকবে না।’

জোটে এনসিপির ১০ আসন চূড়ান্ত : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল ৩০ আসনের সমঝোতায় জামায়াতসহ সমমনা আট ইসলামিক দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আসন বণ্টনের জটিল সমীকরণে এর মধ্যে এনসিপি ১০টি নির্বাচনি আসন প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে জানিয়েছে দলীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র। এর মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ থেকে, সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ অথবা ঢাকা-১৮, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব ঢাকা-১৬, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী-৬। এ ছাড়া দলটির নেতা আতিক মুজাহিদ কুড়িগ্রাম-২, অ্যাডভোকেট শাকিল আহমেদ মেহেরপুর-২ ও গোলাম মোর্তজা ঠাকুরগাঁও-১, নরসিংদী-২ আসন থেকে লড়বেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে ডা. মাহমুদা মিতু নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি ২০ আসনের চূড়ান্ত তালিকা এনসিপির পক্ষ থেকে আজ প্রকাশ করা হবে।