নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে চলমান অভিযানে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে উদ্ধারকারী দল। এমন পরিস্থিতি এর আগে কখনো মোকাবিলা করেননি বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার টানেল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আর্নল্ড ডিক্স।
শনিবার নেপালে পৌঁছে চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন ডিক্স। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, নেপালে এবার যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা তাঁর আগের অভিজ্ঞতার কোনোটির সঙ্গেই পুরোপুরি মেলে না।
গত ২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যার পর চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারে নেপালি ও ভারতীয় উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কাজ করছেন ডিক্স।
ডিক্সের মতে, এটি একক কোনো উদ্ধার অভিযান নয়। টানেলের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে এবং প্রতিটি স্থানের পরিস্থিতি, ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা আলাদা।
তিনি বলেন, একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে একাধিক সম্ভাব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে ভিন্ন ধরনের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। তারপরও সেখানে এমন মানুষের জীবন রয়েছে, যাদের এখনো বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি ডিক্সকে ভারতের উত্তরাখণ্ডের ২০২৩ সালের সিল্কিয়ারা টানেল উদ্ধার অভিযানের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই ঘটনায় টানেলের একটি অংশ ধসে পড়ার পর ৪১ জন নির্মাণশ্রমিক ভূগর্ভে আটকা পড়েছিলেন। ১৭ দিন পর সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
চিলিমে অভিযানে ডিক্সের সঙ্গে সিল্কিয়ারা উদ্ধার অভিযানে কাজ করা কয়েকজন সহকর্মীও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কর্নেল পরীক্ষিত মেহরা রয়েছেন, যিনি বর্তমানে ঘটনাস্থলে মোতায়েন ভারতীয় সেনাবাহিনী ও জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
বিপর্যয়ের চতুর্থ দিনে ভারত সরকার এনডিআরএফের মাধ্যমে বিশেষ টানেল উদ্ধারকারী দলকে নেপালে পাঠায়।
ডিক্স জানিয়েছেন, চিলিমে টানেলের ভেতরে এখনো ৪১ জন আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সিল্কিয়ারা অভিযানের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো ঘটনা অসম্ভব না হলেও তা অত্যন্ত অসম্ভাব্য হতে পারে—এই পার্থক্যটি মনে রাখা জরুরি। তাঁর মতে, নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ একই সময়ে একাধিক মানুষের জীবন উদ্ধারের ওপর নির্ভর করতে পারে।
চিলিমে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছানোর পর নেপালি ও ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নিয়ে টানেলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন ডিক্স। ভূগর্ভস্থ পাওয়ারহাউসে পৌঁছানোর সম্ভাব্য পথ ও উদ্ধার পরিকল্পনাও নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানের ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ডিক্স। তাঁর বক্তব্য, আশাকে দায়িত্বে পরিণত করতে হবে এবং সহানুভূতিকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। সফলতার নিশ্চয়তা না থাকলেও দায়িত্ব থেকে সরে আসা উচিত নয়।
চিলিমের উদ্ধার অভিযান ভোতেকোশি-ত্রিশূলী করিডরে ভয়াবহ বন্যার পর পরিচালিত বৃহত্তর উদ্ধার কার্যক্রমের অংশ। ওই দুর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে।