শুক্রবার সন্ধ্যায় নেপাল থেকে ঢাকা ফিরেছেন অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। দেশের মাটিতে পা রেখেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তখন তাঁর চোখে অশ্রু ছলছল করছিল। অনেকটা বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল তাঁকে। তারপরও তাঁর চোখে-মুখে ছিল স্বস্তির পরশ। কারণ নিরাপদে দেশে ফিরতে পেরেছেন তিনি।
কাছে পেয়েছেন সন্তান আর প্রিয়জনদের। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠামাখা বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রথমে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, এরপর আমার দেশের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ, সবার প্রার্থনায় আজ আমি নিরাপদে আমার প্রিয় জন্মভূমির মাটিতে পা রাখতে পেরেছি। সেই মৃত্যুপুরীতে বসে ভাবছিলাম, দেশে রেখে আসা আমার একমাত্র সন্তানকে আমি আর দেখতে পাব? স্বজনদের কাছে ফিরতে পারব? বারবার শিউরে উঠছিলাম। তিনি জানান, ২৬ আগস্ট নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনাটি ঘটেছিল কাঠমান্ডু থেকে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার দূরত্বের একটি পাহাড়ি এলাকায়। তবে কাকতালীয়ভাবে আমাদের পরিকল্পনা ছিল ২৭ তারিখে সেই একই পথ দিয়ে যাওয়ার। যাত্রার তারিখ একদিন পর হওয়ায় অলৌকিকভাবে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাই- আমি ও আমার ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং ইউনিট।
তিনি বলেন, “আমাদের যে রাস্তা দিয়ে কাঠমান্ডু ঢোকার কথা ছিল, ঠিক তার কাছাকাছি সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এটি সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমত যে ২৬ তারিখ নয়, ২৭ তারিখ আমাদের মুভ করার কথা ছিল। তবে দুর্যোগটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ওই রাস্তাটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্যোগের আকস্মিকতায় শুটিং বন্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগের মাঝে গানের শুটিং করা অত্যন্ত অমানবিক দেখায়। তাই আমি পুরো টিমের সঙ্গে আলোচনা করে শুটিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই এবং সবাই নিরাপদে দেশে ফিরে আসি।” তিনি বলেন, দুর্যোগটা ঘটেছে গত ২৬ তারিখে, এটা বিগত ৯ মাস আগেই নাকি তাদের একটা বার্তা ছিল, কিন্তু সেটাকে হয়তোবা খুব একটা আমলে নেয়নি এবং এই সপ্তাহের মধ্যেই কিন্তু আবার আরেকটা দুর্যোগের ঘটনা এরকম আভাস তারা পাচ্ছেন। অপু বলেন, আমার ভক্তরা শুধু নয়, সাংবাদিক ভাইবোনেরাও যেভাবে আমার খোঁজ নিয়েছেন, আমার সেদিন মনে হয়েছে, আমি সত্যিই কাজ করেছি এবং আপনাদের উদ্বেগটা দেখেছি। তাই আমি ভক্তসহ সাংবাদিক ভাইবোনদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞতা জানাই।” কামরুজ্জামান রোমানের পরিচালনায় নির্মিত ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন অপু বিশ্বাসসহ বাংলাদেশ ও কলকাতার একাধিক শিল্পী। পাহাড়ি অঞ্চলের মনোরম পরিবেশে কাজ চললেও হঠাৎ বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে।