ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। হামলার বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে এই পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইতালির সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বাঁধন। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ। বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটও তাঁকে আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে। অনলাইন ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানে জানা গেছে, শনাক্ত পাঁচজন হলেন- শিপল মাহমুদ বিপ্লব, মনিরুল হাওলাদার, মো. আলতাফ পাহাড়, ইলিয়াস মিয়া ও মাসুম খালাশে। হামলার বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অনুসন্ধান টিমের দাবি, শনাক্ত ব্যক্তিরা ইতালিতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। তবে এ পরিচয় ও হামলায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তাধীন। ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগে আটজন বাংলাদেশি নাগরিকের নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে। বাঁধন জানান, ইতালির পুলিশ তাঁকে সহযোগিতা করেছে। হামলার পর পুলিশ তাঁকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেয়। পরে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে থানায় গিয়ে মামলা করার কথা জানান তিনি। ঘটনাটির তদন্তে নেমেছে ইতালির পুলিশের বিশেষ শাখা ডিগোস। স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়ার পর হামলার ভিডিও ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমেও ঘটনাটি গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার পর বাঁধন জানিয়েছেন, তিনি আইনি প্রক্রিয়া শেষ না করে ইতালি ছাড়তে চান না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তিনি ভয় পেয়ে নীরব হয়ে যাবেন না এবং ঘটনার শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপদে আছেন বলেও জানান। বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় বাংলাদেশেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দেশ-বিদেশে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে একজন অভিনেত্রী বিদেশের মাটিতে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগ তোলায় বিষয়টি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলান কনস্যুলেট বাঁধনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। এখন ইতালির তদন্তে হামলার প্রকৃত ঘটনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা কতটা প্রমাণিত হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে। এর আগে বাঁধন অভিযোগ করেন, ভেনিসের মেস্ত্রে এলাকায় ভাই ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বের হওয়ার সময় একদল বাংলাদেশি তাঁকে ঘিরে ধরে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করে।