ব্যাংক খাতের একটি অংশে নতুন করে দেখা দেওয়া আস্থাহীনতার প্রভাবে আবারও ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ হিসেবে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ফিরছেন বিনিয়োগকারীরা। কয়েক মাসের ধারাবাহিক নেতিবাচক প্রবণতা কাটিয়ে চলতি বছরের এপ্রিলে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২,২৬০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ২,১৩৫ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারিতে এই ঘাটতি ছিল ১,১৬৪ কোটি টাকা। তবে এপ্রিলে পরিস্থিতি বদলে ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসে নিট বিক্রি।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংক নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক আমানতকারী অর্থ তুলে নিচ্ছেন। একই সময়ে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্যের কারণে অনেক ব্যাংক আমানতের সুদহার কমিয়েছে। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রে তুলনামূলক বেশি মুনাফা থাকায় এটি আবারও আকর্ষণীয় বিনিয়োগ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ব্যাংকারদের মতে, বিনিয়োগের সীমিত সুযোগ, আর্থিক খাতের অনিশ্চয়তা এবং নিরাপদ সঞ্চয়ের প্রবণতা সব মিলিয়ে পরিবারগুলো সরকারি এই বিনিয়োগমাধ্যমের দিকে ঝুঁকছে।


বর্তমানে নির্ধারিত ব্যাংক ও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মনোনীত কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সঞ্চয়পত্র কেনা যায়। নির্ধারিত সীমার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে টিআইএনসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয়।


তবে এপ্রিলে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে মোট নিট বিক্রি এখনো ঋণাত্মক ৪২৯ কোটি টাকা। যদিও আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৭,৪৩১ কোটি টাকা। অর্থাৎ সার্বিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে ব্যাংকের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও ট্রেজারি বন্ডে তুলনামূলক বেশি মুনাফা থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্র থেকে সরে গিয়েছিলেন। আবার দীর্ঘ সময় ৯ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফীতির কারণে অনেক পরিবার মেয়াদপূর্তির সঞ্চয়পত্র ভেঙে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়েছে।


এ ছাড়া সরকারের নীতিগত পরিবর্তনেরও প্রভাব পড়েছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে। কয়েকটি স্কিমে মুনাফার হার সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ব্যয়বহুল সরকারি ঋণ কমানো এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগে বাধ্যতামূলক টিআইএনসহ কঠোর ক্রয়শর্ত আরোপ করা হয়েছে।


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট বিক্রি ছিল ঋণাত্মক ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা।  চলতি বছরের এপ্রিল শেষে দেশে স্থিতিশীল সঞ্চয়পত্রের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা।