সিলেটের সুরমা নগরীর ক্বিন ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন র্যাব সদস্য ইমন আচার্য্য। গতকাল দুপুরে ছুরিকাঘাতের পর এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। কনস্টেবল ইমন আচার্য্য র্যাব-৯-এ কর্মরত ছিলেন। ঘাতক ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি নগরীর কাজির বাজার এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও র্যাব সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কোতোয়ালি থানা পুলিশ একজন ছিনতাইকারী ধরতে গেলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। সেখানে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছিলেন র্যাব-৯-এর কয়েকজন সদস্য। পুলিশের ধাওয়ায় পালিয়ে যেতে দেখে র্যাব সদস্য ইমন তাকে আটকের চেষ্টা করেন। এ সময় বাপ্পী তাঁর বুকের বাঁ পাশে ছুরিকাঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। তিনি দৌড়ে পাশের তোপখানার একটি বাসায় ঢুকে এক শিশুর গলায় চাকু ধরে জিম্মি করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা কৌশলে তাকে আটক ও চাকু উদ্ধার করেন। ওই সময় ধস্তাধস্তিতে এএসআই জামাল মিয়া ও কনস্টেবল হাকিম উজ্জ্বল আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইমনকে ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা দেড়টার দিকে তিনি মারা যান। বাপ্পীর বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
এদিকে ইমনের মৃত্যুতে র্যাবের মহাপরিচালক গভীর শোক প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশকে কুপিয়ে জখম : নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল : বরিশালের উজিরপুরে মাদক উদ্ধার অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। অভিযানের সময় ডিবি পুলিশের এক কনস্টেবলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। খবর পেয়ে উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত কনস্টেবল মৃণালকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত চারজনকে আটক করা হয়।
আটকরা হলেন- উজিরপুর উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ মোল্লা, সহযোগী শামীম মোল্লা, মুনসুর মোল্লা ও মো. আলাউদ্দিন। তাদের বাড়ি উজিরপুর উপজেলার হানুয়া এলাকায়। এ ঘটনায় ডিবির এসআই আরসেল বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা, গুরুতর ও সাধারণ জখমের অভিযোগে মামলা করেছেন।
বরিশাল জেলা ডিবি পুলিশ পরিদর্শক শেখ এহতেশামুল ইসলাম জানান, গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে সাত সদস্যের একটি দল উজিরপুর পৌরসভার খেয়াঘাট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। আরিফ মোল্লার নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে বাধা দেয়। একপর্যায়ে আরিফ মোল্লা তার কাছে থাকা মাদকের একটি পোটলা পাশের পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেয়। তখন ডিবির কনস্টেবল মৃণাল চন্দ্র পুকুর থেকে ওই মাদকদ্রব্য উদ্ধারের চেষ্টাকালে আরিফ তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি রক্তাক্ত জখম হন।