রংপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রশাসন ও সুধীজনরা। গত তিন মাসে রংপুর নগরীসহ জেলার আট উপজেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, খুনসহ মোট ৮৯৯টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। গড়ে প্রতিমাসে প্রায় ৩০০টি করে অপরাধ ঘটেছে।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এসব তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খৃস্টফার হিমেল রিছিল।

তিনি জানান, গত তিন মাসে ৩৭ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একই সময়ে ১৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ছাড়া প্রতি মাসে গড়ে ১২টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, নভেম্বর মাসে জেলায় দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ মাসে ২০টি চুরি, দুটি সিঁধেল চুরি এবং তিনটি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৫ জন, যার মধ্যে ৩৩টি ঘটনা ঘটেছে নগরীর বাইরে। এছাড়া সাতজন ধর্ষণের শিকার হন। নভেম্বর মাসে মোট অপরাধ সংঘটিত হয়েছে ২৮২টি।

অক্টোবর মাসে জেলায় পাঁচজন খুন হন। এ সময় ৩২টি চুরি, তিনটি সিঁধেল চুরি, তিনটি অপহরণ এবং একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হন ৪১ জন। এ মাসে মোট ২১টি ধর্ষণের ঘটনার মধ্যে ২০টি উপজেলা পর্যায়ে সংঘটিত হয়। অক্টোবরে মোট অপরাধের সংখ্যা ছিল ৩১৩টি।

সেপ্টেম্বর মাসে রংপুর জেলায় ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ সময় ৩৫টি চুরি, চারটি অপহরণ এবং ৯ জন ধর্ষণের শিকার হন। নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৮ জন। সেপ্টেম্বর মাসে মোট অপরাধ সংঘটিত হয়েছে ৩০৪টি।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন, সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা, সরকারি আইনজীবী আব্দুল হাদী বেলালসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।