ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ পালং, জাজিরা আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। ভোটের ফলাফলে নিজের এলাকার ১৩টি গ্রামের মধ্যে বাড়ির চারটি ভোট ছাড়া আর কোনো ভোটই পাননি তিনি। মোট পেয়েছেন ৩৫৯ ভোট।
এই আসনের অন্তর্ভুক্ত শরীয়তপুর সদর, জাজিরা উপজেলা। মোট ভোটার ৩৯৫৪৭৬ জন। পুরুষ ভোটার ২০৭৭৩০ জন, নারী ভোটার ১৮৭৭৩৬ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন।
পরাজয়ের পর দুঃখ প্রকাশ করে গোলাম মোস্তফা বলেন, ১৩টা গ্রামের মধ্যে একটা ভোটও পাই নাই আমার বাড়ির ভোট ছাড়া। একটা লোকও ভোট দিল না। ভুলেও ভোট দিল না। সবাই আমাকে মুখ লুকায়ে চলে।
তিনি আরও বলেন, আমি এই নাওডুবার সন্তান। আমার বেড়ে ওঠা এই নাওডুবা। নাওডুবা প্রাইমারি স্কুল, নাওডুবা হাইস্কুল যেটা আমজাদ সওদাগরের স্কুল, আমজাদিয়া একাডেমি। সেই আমজাদিয়া একাডেমি সেন্টারে সাড়ে চার হাজারের মতো ভোটার ছিল, অথচ একটা ভোটও পেলাম না।
মানুষের পাশে থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই গ্রাম জনপদের মানুষের সুবিধা অসুবিধায় সবসময় ছুটে চলেছি। মানুষের জন্য কী না করেছি। কেউ কি বলতে পারবে আমার কাছে এসে কোনো উপকার পায় নাই, না হলে অন্তত একটা সৎ পরামর্শ পাইছে। তবুও সবাই হঠাৎ মুখ ফিরায়ে নিল।
ভোটারদের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই বলেছিল আমাকে ভোট দেবে। কিন্তু ভোটের দিন একটা লোকও দিল না। ভাবা যায়।
নিজের শিকড়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমজাদ সওদাগরের বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে, সে চলে গেছে। কিন্তু আমি কোথায় যাব বলেন। আমার তো নাওডুবা ছাড়া আর কোনো জায়গা নাই।
তিনি আরও বলেন, এখন সবাই আমাকে মুখ লুকিয়ে চলে। কারণ মুখ দেখানোর মতো অবস্থা তাদের নাই, সেটাও বুঝি। তবে যারা এই নীল নকশার সঙ্গে জড়িত, যারা নাওডুবাকে এত বড় অসম্মানের মধ্যে ফেলেছে, তারা কখনো এই নাওডুবায় সম্মানিত হতে পারবে না। এটা অভিশাপ না, এটা নাওডুবার জন্য বিশেষ বার্তা।
গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে মুঠফোনে বলেন, ভবিষ্যতে ভালো কাজ থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই। যেহেতু সমাজেই বসবাস করি, আদর্শচ্যুত হতে পারব না। এখনও মানুষের কাজেই নিজেকে নিয়োজিত করব। মানুষের কাজ করে আনন্দ পাই।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থায় বিস্তর অভিযোগ আছে। নির্বাচনের মানে হচ্ছে অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকতে হবে, এটা ঠিক না। টাকা ছাড়া কর্মী পাওয়া যায় না, এজেন্ট দেওয়া যায় না। এই বাস্তবতার মাঝে দেশের আসল জনপ্রতিনিধি বের হয়ে আসবেন কিনা সেটাই প্রশ্ন। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক দলের সাপোর্ট ছাড়াও সৎ মানুষ বের হয়ে আসতে পারবে কিনা সেটাও প্রশ্ন থেকে যায়। আমি এর পরিবর্তন চাই দেখেই প্রার্থী হয়েছি। এ কারণে একা একা অটো নিয়ে আমার আসনের সব জায়গায় গিয়েছি। মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ চেয়েছি।
শরীয়তপুর-১ আসনের ১৩৯টি কেন্দ্র ও পোস্টাল ভোটের ফলাফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম। তিনি পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৯৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত মজলিসের জালালুদ্দীন আহমদ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৭১৭ ভোট।