নেত্রকোনায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলার আসামি গোলাম কিবরিয়ার (২৮) জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ প্রায় এক বছর পলাতক থেকে সোমবার দুপুরে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক এ আদেশ দেন। 


কিবরিয়া বারহাট্টা থানায় উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। এর আগে চন্দ্রপুর লামা পাড়া গ্রামের ১৩ বছরের এক কিশোরী প্রতিবেশি দাদী পারুল বেগমের বাড়ি আরবি শিখতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। এরপর গত ২২ ডিসেম্বর কিশোরী পুত্র সন্তান প্রসব করে। তারপর থেকে অসুস্থ শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে দিন কাটছে অসহায় পরিবারটির। 


জানা গেছে, নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী পাশের বাড়ির আত্মীয়ের কাছে আরবি শিখতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হলেও প্রথমে বুঝতে পারেনি কেউই। কিশোরী অসুস্থ হলে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ধরা পড়ে সন্তান সম্ভবা। তখন অটোচালক দরিদ্র বাবার মাথায় হাত পড়ে। এরপর ধর্ষণকারীর খোঁজ মিললেও স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি চেয়ারম্যানের আত্মীয় হওয়ায় স্থানীয়ভাবে দরবারে কালক্ষেপনের পর গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বারহাট্টা থানায় গোলাম কিবরিয়াকে (২৮) আসামি করে নারী শিশু দমন আইনে মামলা দায়ের করেন কিশোরীর বাবা। পরে পুলিশ তদন্ত করে পড়তে যাওয়া প্রতিবেশি দাদী দেলোয়ার হোসেন ওরফে ঢুলুর স্ত্রী পারুলা বেগমকে (৪৫) আটক করলেও ধর্ষণকারী ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। এদিকে অসহায় কিশোরীর পরিবারটি হুমকির মুখে পড়ে থাকে। পরবর্তীতে সোমবার জামিন চেয়ে হাজিরা দিতে গেলে আদালতের বিচারক জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। 


এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন মোবাইল ছাড়া পলাতক ছিলো কৌশলে। পরে আসামির বাড়িতে গিয়ে অন্যদের ধরে আনার কথা বলায় তারাই হাজির হওয়ার ব্যবস্থা করে। কিন্তু জামিন হয়নি। এখন তার ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। শিশুটির সাথে ম্যাচ হলেই শাস্তি শুরু হয়ে যাবে। এদিকে হাসপাতালে মেয়েটি ও শিশুর চিকিৎসা সহায়তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।