চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) সম্প্রতি একটি উচ্চক্ষমতা পরিদর্শন টিম গঠন করে। যারা নগরের স্থাপনাগুলোর অনিয়ম দেখা শুরু করে। দল পরিদর্শন শুরুর পর যতগুলো ভবন পরিদর্শন করেছেন হেন কোনো ভবন বা স্থাপনা পাননি যেখানে অনিয়ম নেই। গত ২০ জুলাইয়ের পর থেকে সিডিএ প্রায় অর্ধশত স্থাপনা পরিদর্শন করে। প্রতিটিতে ব্যাপক অনিয়ম শনাক্ত করে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার এক দিনে ১১টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে নানা অনিয়মে ৪১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীতে জগদ্দল পাথরের মতো জেঁকে বসা যানজট নিরসনের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। তারা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক যানজটকে প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর ২০ জুলাই থেকে সড়কের পাশে থাকা বেসরকারি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সুপারশপে সরেজমিন পরিদর্শন করে পার্কিং ও ভবনের নকশা তদারকি করে। গত বৃহস্পতিবার আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে পার্কিয়ের জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করায় সুপারশপ উৎসবকে ৮ লাখ টাকা ও আরেকটি সুপারশপকে ১১ লাখ টাকা জরিমানা করে। সেফস লাউঞ্জ নামের একটি রেস্টুরেন্ট কোনো ধরনের পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না রেখেই ব্যবসা পরিচালনা করায় প্র্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করা হয়। অভিযানে তিনটি ভবনের অনুমোদনহীন অংশ ভেঙে দেওয়া, চারটি ভবনকে সিলগালা করা ও ভবন মালিক হতে মুচলেখা নেওয়া হয়।
অভিযানের বিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, এক মাস ধরে পরিচালিত অভিযান-পরিদর্শনে দেখা যায়, বড় বড় হাসপাতাল, ল্যাব, প্রতিষ্ঠান সুপারশপগুলোর অনেকেই নিয়ম মানে না। গত বৃহস্পতিবার এক দিনেই ৪১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। যেখানে যাওয়া হচ্ছে সেখানেই অনিয়ম শনাক্ত হচ্ছে। তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আমি প্রত্যাশা করব, সবাই যেন সিডিএর ডিজাইন অনুযায়ী স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে।
নিয়ম না মানার বিষয়ে স্থপতি মিজানুর রহমান বলেন, ভবন অনুমোদন নেওয়ার সময় সব আইনবিধি মেনে নেওয়া হয়। পরে অনেকেই ভবন বৃদ্ধি, আবাসিকের জন্য নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যবহার, ছাদের আয়তন বৃদ্ধিসহ নানাভাবে আইন ভেঙে অনেক কাজ করে। তার পরামর্শ, সিডিএকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। স্থাপনা নির্মাণের সময়ই তদারকি বাড়াতে হবে, নিজস্ব ইন্সপেক্টর দিয়ে নিয়মিত সার্ভে করতে হবে। তবে সঙ্গত কারণে একই ইন্সপেক্টরকে একই এলাকায় বেশি দিন রাখা যাবে না। তিনি বলেন, নিয়মিত পরিদর্শন করে স্থাপনা নির্মাণের দৃষ্টান্ত আমাদের দেশেই আছে। সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত ভবন স্থাপনাগুলো কখনো এক ইঞ্চিও কম বেশি হতে পারে না। এটি মনিটরিংয়ের ফল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিদর্শন করা প্রতিটি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সুপারশপসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভয়াবহ অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিটি স্থাপনায়ই অবকাঠামোগত অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্য করা এবং বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনের অনুমোদন নিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করা, পার্কিংয়ের স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার রাখা, ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপন ও ডাস্টবিন রাখা, পার্কিং ব্যবস্থা মোটেও না থাকা, ভবনের নকশা না থাকা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা অপ্রতুল থাকা, জরুরি বহির্গমন সিঁড়িতে ময়লার স্তূপ থাকা, অনুমোদিত নকশার বিচ্যুতি ঘটা, নকশার বাইরে লিফট নির্মাণ, সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরম অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করা হয়। সিডিএ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব অনিয়ম সংশোধন করতে সময় বেঁধে দিয়ে কঠোর নির্দেশনা দেয়।