রাজশাহী মহানগরীর অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত উপশহর। ওই এলাকার ২ নম্বর সেক্টরে রাজশাহী গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চারটি আবাসিক প্লট ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সংরক্ষিত এসব প্লট বরাদ্দ না হওয়ায় এখন সেগুলো খালি। আর সেই সুযোগে স্থানীয় একটি চক্র প্লটগুলো দখল করে বস্তি গড়ে তুলেছে। গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২-৬৩ সালের দিকে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অধীন রাজশাহী হাউজিং এস্টেট গড়ে ওঠে। ১৯৮০ সালে উপশহর আবাসিক এলাকায় প্লট বরাদ্দ শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে প্রায় দেড় হাজার প্লট বরাদ্দ দেওয়া হলেও এত বছর পরও এখনো পড়ে আছে ২৩টি। যার আনুমানিক বাজারমূল্য অন্তত ১২৫ কোটি টাকা। ফাঁকা থাকার সুযোগে স্থানীয়রা যে যার মতো করে প্লটগুলো দখল করে রেখেছেন। কেউ কেউ রাজনৈতিক কার্যালয়ও গড়ে তুলেছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, উপশহর ২ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় চারটি প্লট সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। তবে পর্যাপ্ত আবেদন না পাওয়ায় প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২৪০/১, ২৪০/২, ২৪০/৩ ও ২৪০/৪ নম্বর প্লট ফাঁকা নেই এখন। বছরের পর বছর ধরে এসব প্লট খালি পড়ে থাকলেও সেগুলো নতুন করে বরাদ্দের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রায় ১০ বছর ধরে সেগুলো দখল হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর আল মামুন সরকার একসময় দখলে রেখেছিলেন প্লটগুলো। সেখানে আওয়ামী লীগের একটি ওয়ার্ড কার্যালয়ও গড়ে উঠেছিল। নগরীর ১ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি প্লট দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, ক্লাবঘর থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ৩ নম্বর সেক্টরে কয়েকটি দোকান গড়ে উঠেছে। তবে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা ২ নম্বর ও ১ নম্বর সেক্টরের। ২৩টি প্লটের মধ্যে এই দুই সেক্টরেই অন্তত ২০টি প্লট এখনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ১ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘এই অভিজাত এলাকায় এখনো অনেক প্লট ফাঁকা পড়ে থাকায় সেগুলোর বেশির ভাগ দখল হয়ে গেছে। আবার এখনো অনেকগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। অনেক স্থানে বস্তি গড়ে তোলায় এলাকার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।’ ৩ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, ‘যতগুলো প্লট এখনো ফাঁকা পড়ে আছে, সেগুলো সরকার বরাদ্দ দিলে এখন অন্তত ৫০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে।’ রাজশাহী গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল সরকার জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত চারটি প্লটের বিপরীতে কোনো আবেদন না আসায় সেগুলো বরাদ্দ দেওয়া যায়নি। পরে ২০২৪ সালে কোটাব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও এ বিষয়ে নতুন কোনো সরকারি সার্কুলার বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমানে প্লটগুলো বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই।