তীব্র শীতের প্রভাবে নোয়াখালীতে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে শীতজনিত রোগসহ বিভিন্ন কারণে অন্তত ৫৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বর মাসেই তীব্র শীতের কারণে মারা গেছে ১৮ শিশু। পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে চলতি শীত মৌসুমে হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। ঠান্ডাজনিত জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ভাইরাল ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই শত শত শিশু হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তীব্র শীতে সক্রিয় বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের কারণে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এর সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্স সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গত তিন মাসে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে এখানে চিকিৎসা নিয়েছে প্রায় চার হাজার শিশু। প্রতিদিনই নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডাজনিত জ্বর, ডায়রিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য শিশু। শয্যার সংকটে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে

হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাটকোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের খোলা ঘর ও টিনের চালের ঘরে বসবাসকারী শিশুরা শীতের ঝুঁকিতে বেশি রয়েছে। এসব এলাকায় নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মুহাম্মদ মাহমুদে কায়নাত বলেন, শীতের কারণে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা দেরিতে শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তিনি জানান, তীব্র শীত, প্রসবকালীন জটিলতা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও জন্মগত ত্রুটিএই কারণগুলোতেই গত তিন মাসে ৫৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব আহমেদ চৌধুরী বলেন, সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়াই শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসে ৫৭ শিশুর মৃত্যু এবং শুধু ডিসেম্বরেই ১৮ শিশুর প্রাণহানি পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে।

চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা, পর্যাপ্ত শীত সুরক্ষা এবং কার্যকর সরকারি উদ্যোগ না নেওয়া হলে চলতি শীত মৌসুমে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় শিশুদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।