ব্যস্ত নগরজীবনের অন্যতম বড় সমস্যা এখন তীব্র যানজট। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অসংখ্য বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রয়েছে। রাস্তাজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ নগরবাসীর প্রতিদিনের বাস্তব চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে অফিস শুরু ও শেষের সময় যানজট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী এবং জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সও যানজটে আটকে পড়ে, যা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যানজটের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সড়কের তুলনায় অতিরিক্ত যানবাহন, ট্রাফিক আইন অমান্য, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত ও সড়ক দখল, নির্মাণকাজ এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গণপরিবহন ও সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়ায় সমস্যাটি আরও প্রকট হয়েছে। গবেষণাগুলোও দেখায় যে, কার্যকর সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতি যানজটের অন্যতম কারণ।
যানজটের কারণে প্রতিদিন বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। জ্বালানি অপচয় বাড়ছে, পরিবেশে ধোঁয়া ও শব্দদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং মানুষের মানসিক চাপও বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দীর্ঘ সময় যানবাহন স্থির থাকায় বায়ুদূষণ আরও বেড়ে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, আধুনিক ও মানসম্মত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা, অবৈধ দখলমুক্ত সড়ক নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে যানজটের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসন করা হবে। কারণ একটি সচল ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু নাগরিকদের স্বস্তিই নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।