মৃত্যু সম্পর্কে পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত খুবই প্রাসঙ্গিক। আয়াতটি হলো-‘কুল্লু নাফসিন জায়েকাতুল মাউত’, যার অর্থ-সব প্রাণীকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। শ্রদ্ধাভরে দেশনেত্রী বলে সম্বোধন করা হতো তাঁকে। দেশ যখন আসন্ন সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রে উত্তরণের অপেক্ষায়, সেই ক্রান্তিকালে তাঁর মৃত্যু কোটি কোটি মানুষের জন্য শোকের। মৃত্যু সম্পর্কে চীনা নেতা মাও সে তুংয়ের একটি উক্তি এ প্রসঙ্গে মনে পড়ছে। তিনি বলেছিলেন, কোনো কোনো মৃত্যু হাঁসের পালকের মতো তুচ্ছ, আর কোনো কোনো মৃত্যু থাই পাহাড়ের মতো ভারী। পরিণত বয়সে দেশনেত্রীর মৃত্যু হলেও, তা মেনে নিতে দেশবাসীর কষ্ট হচ্ছে। তাঁর মৃত্যুশোক তাজিংকং পাহাড়ের মতো দেশবাসীর বুকে চেপে বসেছে।
বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে এক বিস্ময়। ১৯৮২ সালে জাতির এক দুঃসময়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মের কালোরাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর বিপথগামী সদস্যদের হাতে প্রাণ হারান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মনে করা হয় সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তাঁকে প্রাণ হারাতে হয়। তারপর শুরু হয় পুতুলনাচের ইতিকথা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে ধ্বংসের নীলনকশার বাস্তবায়ন শুরু হয়। এই কঠিন সময়ে কুলবধূ বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন দলের নেতা-কর্মীদের আহ্বানে।
এরশাদের সেনাপতি শাসনের পতন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। ১৯৯০ সালের গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদের পতন হয়। তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সব জল্পনাকল্পনা মিথ্যা প্রমাণ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয় বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী পদেও নির্বাচিত হন তিনি।
সরকারপ্রধান হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া সুবিবেচনার যে দৃষ্টান্ত রেখেছেন, তা অতুলনীয়। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা দল নয়, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে তিনি মূল্য দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বেই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। বিএনপি দলগতভাবে ছিল রাষ্ট্রপতিশাসনের পক্ষে। কিন্তু জাতীয় ঐকমত্যের খাতিরে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেন। বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের আমলে অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেওয়া হয় স্বনামখ্যাত আইনজীবী আমিনুল হককে। যিনি ছিলেন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের বড় ভাই। সৎ ও নিষ্ঠাবান আইনজীবী হিসেবে আমিনুল হক ছিলেন ব্যাপক সুনামের অধিকারী। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তবে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থক। বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুল হক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। আইনমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ বিষয়ে অবগত হন। তিনি ডেকে পাঠান আমিনুল হককে। বলেন যে দলের সমর্থক হোন না কেন, আপনি একজন সৎ আইনজীবী। গণতন্ত্রের প্রতি যিনি অঙ্গীকারবদ্ধ-দেশ তাঁর সেবা চায়। আমার আস্থা আপনার প্রতি। আপনি থাকলে পতিত স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে। কারণ আপনাকে তারা কিনতে পারবে না। আমিনুল হক তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। ১৯৯৪ সালে অসুস্থার কারণে তিনি ওই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে বিদায় নেন।
ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিরাজনীতিকরণের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। গ্রেপ্তার হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় অসম্মানজনক আচরণও করা হয়। প্রতিপক্ষ দলের শীর্ষ নেতার সঙ্গে অবৈধ সরকারের অন্যায্য আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি তাঁর মুক্তিও দাবি করেন। অথচ ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টিতে আওয়ামী লীগের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার দায় কম নয়। ওয়ান-ইলেভেনের সময় বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা দুই শীর্ষ নেত্রীকে দেশ ত্যাগ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। দুই নেত্রীই ছিলেন শারীরিকভাবে অসুস্থ। শেখ হাসিনা সে সুযোগ গ্রহণ করে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সাফ সাফ বলে দেন বাংলাদেশ ছাড়া তাঁর কোথাও কোনো ঠিকানা নেই। তিনি দেশেই থাকবেন। কোনো চাপে দেশ ছেড়ে যাবেন না।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জনপদ। এখন দুই শতাধিক দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ৩৫তম অর্থনীতির দেশ। হতদরিদ্র বাংলাদেশ এখন মধ্য আয়ের দেশের তালিকায় উত্তরণের অপেক্ষায়। এ সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার। কারণ তাঁর আমলেই ঐকমত্যের মাধ্যমে বাজার অর্থনীতির পথে পা দেয় বাংলাদেশ। এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে শিল্পায়নের পথ খুলে দেয়। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ। পদ্মা মেঘনা যমুনা বুড়িগঙ্গাপারের বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে ওষুধ রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। এ সাফল্যের পেছনে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বদলে বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া তথা বাজার অর্থনীতির অবদান অনস্বীকার্য। বিষয়টি যেহেতু বেগম খালেদা জিয়ার আমলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে চালু হয়েছিল, সেহেতু পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারগুলো সে পথ ধরেই এগিয়েছে। দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই সংস্কারের সূচনা হয়। শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচিসহ বেশ কিছু ভালো পদক্ষেপও নিয়েছিলেন তিনি। শেখ হাসিনা বেগম জিয়ার রাজনীতির তীব্র করেননি।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন নজর কাড়া ব্যক্তিত্বের অধিকারী। অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপস করেননি তিনি। এই মনোভাবের কারণে তিনি বারবার দেশিবিদেশি অপশক্তির টার্গেটে পরিণত হয়েছেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রতিপক্ষ তো বটেই, বিএনপি জয়ী হবে দলের নেতা-কর্মীদের কাছেও ছিল অকল্পনীয় বিষয়।
বেগম খালেদা জিয়ার বিয়ে হয় স্কুল ডিঙানোর আগে। তারপর খুব বেশি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। কিন্তু তাঁকে যাঁরা জানেন, তাঁরা কেউ বলেননি এই সম্মানিত মহিলার শিক্ষাগত যোগ্যতার অভাব আছে। অন্তত দুটি ভাষা বলনে-লিখনে দক্ষ তিনি। অন্তত তিনটি ভাষায় শুদ্ধভাবে কথাও বলতে পারতেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। বহু অভিজ্ঞ রাজনীতিককেও স্বীকার করতে হয়েছে তাঁর অসামান্য বাগ্মীতাকে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকেও সমীহ করেছেন- তাঁর অনেক বিদগ্ধ সমালোচক। নিতান্ত কুলবধূর হাতে যখন বিএনপির নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয়, তখন এর যথার্থতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন। কারও কারও ধারণা ছিল বেগম জিয়া দলের ক্ষমতালিপ্সু নেতাদের পুতুলে পরিণত হবেন। তাঁদের শিখিয়ে দেওয়া বুলি আউড়ে যাবেন। এর বাইরে তাঁর কোনো ভূমিকাই থাকবে না। কিন্তু বেগম জিয়ার ডাক নাম ‘পুতুল’ হলেও তিনি যে কারও হাতের পুতুল ছিলেন না, তা প্রমাণ করেছেন। বলা বাহুল্য মেধা ও মননশীলতার মাধ্যমেই তিনি প্রমাণ করেছেন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব। কারও দয়ার ওপর নির্ভর করে নয়।
যারা বেগম জিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে নাক সিটকান ইতিহাস অবশ্য তাদের কৃপাই করবে। ভারতবর্ষের শাসকদের মধ্যে মোগল সম্রাট আকবরের স্থান সবার শীর্ষে। তিনি কিন্তু আক্ষরিক অর্থে নিরক্ষর ছিলেন। অথচ তাঁর জ্ঞানগরিমা ও যোগ্যতা নিয়ে কোনো ইতিহাসবিদ প্রশ্ন তোলেননি।
তুরস্কের সুলতানদের মধ্যে সুলায়মান দ্য গ্রেটের নাম ইতিহাস শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। প্রায় অর্ধেক ইউরোপ ছিল তাঁর আওতাধীন। মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া-আফ্রিকার বিরাট অংশের অধিপতি ছিলেন তিনি। সুলায়মান দ্য গ্রেটও ছিলেন আক্ষরিক অর্থে নিরক্ষর। চেঙ্গিস খান ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ বীর, শ্রেষ্ঠ শাসক ও শ্রেষ্ঠ আইনবেত্তা। তিনিও ছিলেন দৃশ্যত নিরক্ষর। অর্থাৎ অক্ষরজ্ঞান না থাকলে যদি কেউ মূর্খ হয়, তবে তিনিও ছিলেন তাই। কিন্তু চেঙ্গিস খান সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন কেবল অর্বাচীনরাই করতে পারেন।
আমরা জানি, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোনো একাডেমিক ডিগ্রি ছিল না। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ছিলেন দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়া। বাংলা ভাষার স্বনামখ্যাত ঔপন্যাসিক সমরেশ বসুর লেখাপড়া অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। আধুনিক বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদের একাডেমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণিতে শেষ হয়েছে। বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল ম্যাক্সিম গোর্কিরও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা ছিল না।
তথাকথিত শিক্ষিত-অশিক্ষিত প্রশ্নে উল্লেখ করতে হয় সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের কথা। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। বাবা ছিলেন সার্কাস কোম্পানির কর্মচারী। যুবক বয়সে জন মেজর একবার বাসের কন্ডাক্টর পদে দরখাস্ত করেন। কিন্তু হিসাব ভালো না পারার যুক্তিতে সে চাকরিটি জোটেনি। কিন্তু এ ‘অর্ধশিক্ষিত’ জন মেজরই পরে দেশের অর্থমন্ত্রী হন। মন্ত্রী হিসেবে দক্ষতা তাঁকে আরও শীর্ষ পদে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করে। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে অসীন হন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ডি-সিলভা লুলা প্রাইমারি স্কুলের গণ্ডি ডিঙাতে পারেননি। ছোটবেলায় জুতা পালিশ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। কিশোর বয়সে কারখানায় কাজ করতে গিয়ে তাঁর হাতের দুটি আঙুল কাটা পড়ে। সমকালীন বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এ রাজনীতিককে ‘অশিক্ষিত’ বলে কেবল প্রকৃত মূর্খরাই অভিহিত করতে পারেন। নামিবিয়ার জাতির পিতা প্রেসিডেন্ট শ্যাম নাজোমো সম্পর্কেও একই কথা বলা যায়। একাডেমিক পড়াশোনা না থাকা সত্ত্বেও তিনি একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হন। বিশ্বনেতাদের অন্যতম বলেও তাঁকে ভাবা হয়।
ভারতের শীর্ষ স্বাধীনতাসংগ্রামী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ জীবনে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়েননি। অথচ তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। তাঁর জন্মদিনকে ভারতে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দেহবাদী হিসেবে আজ একটি মানুষকেও পাওয়া যাবে না। সুদর্শনা ইন্দিরাজীর কিন্তু কোনো একাডেমিক ডিগ্রি ছিল না। বিশ্বরাজনীতির আরেক দিকপাল ভিয়েতনামের রাষ্ট্রপতি হো চি মিনও ছিলেন দৃশ্যত ‘শিক্ষাহীন’ লোক। আমাদের দেশের নেতা মওলানা ভাসানীর ‘মওলানা’ টাইটেলটিও ছিল আরোপিত। অর্থাৎ বাংলা-ইংরেজি দূরের কথা, ধর্মীয় লাইনেও তাঁর তেমন লেখাপড়া ছিল না। অথচ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্যরাও এই মহান নেতার সঙ্গে কথা বলার পর শ্রদ্ধায় মাথা নত করেছেন।
বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক নেত্রী। অতিমানবী নন। মানবিক ভুলত্রুটিরও ঊর্ধ্বে ছিলেন না তিনি। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে যে কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। তাঁর শাসনামলের ভুলভ্রান্তির বিরুদ্ধে সমালোচনার বাণ ছুড়তে পারেন। কিন্তু ব্যক্তিবিদ্বেষ কোনোভাবেই সমালোচনার বিকল্প নয়। প্রতিপক্ষ সেই অসুস্থ মানসিকতায় ভুগে নিজেরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের মানুষ তাদের হৃদয়রাজ্যে কতটা ঠাঁই দিয়েছে তার প্রমাণ তিনি জীবনে কখনো কোনো নির্বাচনে হারেননি। পাঁচটি নির্বাচনে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সব কটিতেই জয়ী হয়েছেন। এমন কৃতিত্ব দেশের অন্য কোনো নেতা-নেত্রীর নেই। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই।